হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিকরমজান উপলক্ষে ৩ হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দিল আরব আমিরাত
spot_img

রমজান উপলক্ষে ৩ হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দিল আরব আমিরাত

পবিত্র রমজান মাস মানেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মহিমান্বিত মাসকে সামনে রেখে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার। দেশের বিভিন্ন কারাগার ও সংশোধনাগার থেকে মোট ৩ হাজার ২৯৬ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা ভাবে এই সাধারণ ক্ষমার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্টের মানবিক উদ্যোগ: ১,৪৪০ জন বন্দির কারামুক্তি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ১ হাজার ৪৪০ জন বন্দিকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শুধু মুক্তিই নয়, প্রেসিডেন্ট আরও একটি বড় ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের সাজা সংক্রান্ত সকল বকেয়া আর্থিক দায়-দায়িত্ব ও জরিমানা সরকার পরিশোধ করবে।
  • জেল থেকে বেরিয়ে তারা যেন নতুন করে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হবে।
  • রমজান মাসে যেন এই পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের সাথে সেহরি ও ইফতার করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই তড়িঘড়ি উদ্যোগ।

দুবাই শাসকের ঘোষণা: আরও ১,৮৫৬ জনের মুক্তি

প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পাশাপাশি দুবাইয়ের শাসক এবং ইউএই-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমও বড় আকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তিনি দুবাইয়ের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৮৫৬ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে দুবাইয়ের কারাগারগুলো থেকে কয়েক হাজার মানুষ তাদের পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।

আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান, দুই ঈদ এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের মধ্যে ইতিবাচক জীবন গড়ার উৎসাহ দেওয়া। যাদের অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক কম এবং যারা কারাগারে ভালো আচরণ করেছেন, সাধারণত তাদেরকেই এই সাধারণ ক্ষমার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

এবারের মুক্তির বিশেষত্ব

১. আর্থিক দায়মুক্তি: সাজা শেষ হলেও অনেকে জরিমানার টাকা দিতে না পেরে জেলে থাকেন। এবার সরকার সেই দায়ভার গ্রহণ করেছে।

২. মানবিক দিক: রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ।

৩. আন্তর্জাতিক প্রভাব: মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমিরাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

পরিবারের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা

হঠাৎ করে এই মুক্তির খবরে বন্দিদের পরিবারগুলোতে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। অনেক বছর পর হয়তো কোনো বাবা তার সন্তানের সাথে বা কোনো সন্তান তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে এবার ঈদ পালন করতে পারবেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছে, এটি শুধু বন্দি মুক্তি নয়, বরং কয়েক হাজার পরিবারকে পুনরায় একত্রিত করার একটি মহান উদ্যোগ।

সূত্র: জিও নিউজ।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!