হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeখোলা-জানালাটুকটুকি আর ভুতুর মজার দুনিয়া
spot_img

টুকটুকি আর ভুতুর মজার দুনিয়া

গরমের ছুটিতে টুকটুকি গ্রামে দিদার বাড়ি গেল। দিদার বাড়ি একেবারে পুকুরপাড়ে, চারদিকে বড় বড় গাছ, দুপুরবেলা ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে, সন্ধ্যায় ঝিকিমিকি জোনাক জ্বলছে।

কিন্তু গ্রামের সবাই বলত,
“এই বাড়ির পাশের পুরনো অশ্বত্থ গাছে নাকি একটা ভূত থাকে।”

টুকটুকি একদম ভয় পেল না। সে মিষ্টি করে হেসে বলল,
“ভূত থাকলে আমি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব।”


১. প্রথম দেখা

একদিন রাতের বেলা টুকটুকি জানালার পাশে বসে গল্পের বই পড়ছিল। হঠাৎ দমকা হাওয়ার ঝাপটা এল। বইয়ের পাতা উল্টে গেল টুকটুক করে।

ঠিক তখনই টুকটুকি শুনল
“হুঁ… আমায় কে নাম ডাকছে?”

টুকটুকি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল
“কে তুমি?”

জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে এক টাক মাথার ভুত। কিন্তু ভুতটা দেখতে একেবারেই ভয়ঙ্কর না। সে লাল চশমা পড়েছে, গায়ে সবুজ ফতুয়া, হাতে একটা টিফিনবক্স।

ভুতটা বলল
“আমি ভুতেশ্বর! তবে সবাই আমাকে ভুতু বলে ডাকে।”


২. মজার ভুতু

ভুতু মোটেই ভয় দেখায় না। বরং সে মজা করে। টুকটুকিকে দেখে সে গেয়ে উঠল
“ভুতেরও তো খিদে পায়, কে দেবে লুচি?”

টুকটুকি হেসে কুটিকুটি। সে দিদার রান্নাঘর থেকে দুটি লুচি এনে ভুতুকে দিল। ভুতু খেতে খেতে বলল
“আহা! মানুষ হলে তো এখনই বিয়ে করে ফেলতাম।”

টুকটুকি আবার হেসে গড়িয়ে পড়ল।


৩. গ্রামে গুজব

ভুতুর দুষ্টুমি কিন্তু অনেক। কখনো সে গ্রামের গরুর লেজে কাপড় বেঁধে দেয়, কখনো হাঁসের গায়ে লাল রঙ মাখায়। ফলে সকালে মানুষ অবাক হয়ে যায়।

সবাই ভাবে ভয়ানক ভূতের কাজ! কিন্তু আসলে এগুলো ভুতুর মজা।

একদিন গ্রামের মেলা বসলো। সেখানে ভুতু গেল বাচ্চাদের সঙ্গে। লুকিয়ে লুকিয়ে সে মিষ্টির দোকানে লাড্ডু চুরি করল, আবার সব বাচ্চাদের হাতে দিয়ে দিল।


৪. টুকটুকির সঙ্গে চুক্তি

টুকটুকি ভুতুকে বলল
“ভুতু, তুমি দুষ্টুমি করো ঠিক আছে, কিন্তু কাউকে কষ্ট দেবে না।”

ভুতু মাথা নেড়ে বলল
“ওরে বাবা, আমি তো দুষ্টু ভুত, খারাপ ভুত নই।”

তারপর তারা একটা চুক্তি করল। প্রতিদিন রাতে ভুতু এসে টুকটুকিকে মজার গল্প শোনাবে।


৫. ভূতের স্কুল

ভুতু টুকটুকিকে নিয়ে গেল একদিন ভূতেদের স্কুলে। সেখানে অনেক ভুত পড়াশোনা করে। কেউ গায় গান, কেউ পড়ে ভূতের ইতিহাস, কেউ আবার শেখে উড়ার বিদ্যা।

হেডমাস্টার ভুত মশাইয়ের নাম কালাচাঁদ ভুত। তিনি বললেন
“টুকটুকি, তুমি খুব সাহসী। তুমি মানুষ হয়েও আমাদের সঙ্গে পড়তে পারো।”

টুকটুকি খুশিতে লাফিয়ে উঠল। সে ভূতের স্কুলে গিয়ে গান শিখল
“ভুতেরও হাসি লাগে, বন্ধুত্বে মন জাগে।”


৬. মজার বিপদ

একদিন গ্রামে বিদ্যুৎ গেল। সবাই ভয়ে কাঁপছে। টুকটুকি চিৎকার করে বলল
“ভুতু, কোথায় তুমি?”

ভুতু সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয়ে বলল
“আসছি, আসছি… আমার মাথার টাকটাই লণ্ঠন।”

সত্যিই, তার মাথা থেকে আলো বেরোতে লাগল। গ্রাম আলোকিত হয়ে গেল। সবাই তখন অবাক হয়ে বলল
“আরে! এই ভুতটা তো আসলে মজার বন্ধু।”


৭. গ্রামের সবার প্রিয় ভুতু

ভুতুর হাসি, গান আর টুকটুকির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব দেখে গ্রামের মানুষরা ভুতুকে আর ভয় পেল না। এখন ভুতু গ্রামে সবার বন্ধু হয়ে গেছে।

বাচ্চারা যখন পড়াশোনা করে না, ভুতু এসে গান ধরে
“না পড়লে যদি, খাবে শুধু লাড্ডু
ক্লাসে পাবে শূন্য, খেয়ে যাবে বাঁদুড়ু।”

সবাই হেসে আবার পড়তে বসে।


সমাপ্তি

টুকটুকি দিদার বাড়ি থেকে শহরে ফিরে গেল। কিন্তু ভুতুর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব রয়ে গেল চিরদিনের জন্য।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!