দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চূড়ান্ত রূপ পেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা। মনোনয়ন প্রত্যাহার ও যাচাই-বাছাই শেষে এখন নির্বাচনের মূল লড়াইয়ে টিকে রয়েছেন মোট ১৯৬৭ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। প্রতীক হাতে পাওয়ার পরপরই সারা দেশে শুরু হয়ে যাবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে থাকছে ভিন্নতা। ভোটাররা সাদা-কালো ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোটে নিজেদের রায় দেবেন।
ভোটের মাঠে কারা আছেন, কারা নেই?
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল অংশ নিচ্ছে। তবে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা দলগুলোর কোনো প্রার্থী এই নির্বাচনে নেই।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নিতে প্রথমে ৩৪২২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে এবং গত মঙ্গলবার (প্রত্যাহারের শেষ দিন) ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন ১৯৬৭ জন। বিশেষ করে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের সমর্থনে অনেক প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে পাবনা-১ ও ২ আসনে পুনঃতফসিলের কারণে সেখানে প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ জানুয়ারি।
ঢাকার হাইপ্রোফাইল প্রার্থীদের অবস্থান
রাজধানী ঢাকার আসনগুলোতে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই দেখা যাবে। বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতারা ঢাকার বিভিন্ন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৫ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর স. ম. খালিদুজ্জামান, জাতীয় পার্টির আতিক আহমেদ এবং বিএনএফ-এর এস এম আবুল কালাম আজাদসহ মোট ১২ জন প্রার্থী।
অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং জাতীয় পার্টির মো. সামসুল হকসহ মোট ৮ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
তরুণ নেতৃত্ব ও অন্যান্য হেভিওয়েট প্রার্থী
ঢাকা-১১ আসনে লড়ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। এই আসনে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ৯ জন প্রার্থীই লড়বেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম এবং ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।
ঢাকা-১৩ আসনে লড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন বিএনপির ববি হাজ্জাজসহ আরও ৮ জন। এছাড়া ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
সারা দেশে জোট ও সমঝোতার চিত্র
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিভিন্ন জেলায় জোটগত সমঝোতা দেখা গেছে। গাজীপুর, চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেটে সমমনা দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
- গাজীপুর: জেলার ৫টি আসনে ৮ জন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন।
- চট্টগ্রাম: ১৬টি আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
- সিলেট: ৬টি আসনে ১১ জন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। এখানে জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে সমঝোতা লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি আদেশে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় গত নির্বাচনে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনের বাইরে। ফলে এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলগুলোর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








