হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Thursday, September 24, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeখেলাধুলাভিনিসিউস-এমবাপের নৈপুণ্যে রিয়াল মাদ্রিদের গোল উৎসব
spot_img

ভিনিসিউস-এমবাপের নৈপুণ্যে রিয়াল মাদ্রিদের গোল উৎসব

সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের। ঘরের মাঠেই শুনতে হচ্ছিল দর্শকদের দুয়ো। স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দেল রে থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলের আত্মবিশ্বাস যখন তলানিতে, ঠিক তখনই জ্বলে উঠল ইউরোপের রাজারা। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে সান্তিয়াগো বের্নাবেউ দেখল এক ভিন্ন রিয়ালকে। মোনাকোকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিল আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা।

কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিউস জুনিয়রের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভেসে গেল প্রতিপক্ষ। জোড়া গোল করলেন এমবাপে, আর পুরো ম্যাচ জুড়ে ভিনিসিউস ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।

সংকটের মেঘ কাটিয়ে জয়ে ফেরা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরের অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ঘরের মাঠে হার, এরপর দ্বিতীয় স্তরের দলের কাছে হেরে কোপা দেল রে থেকে বিদায় সব মিলিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল চরমে। কিন্তু মোনাকোর বিপক্ষে এই বড় জয় যেন এক নিমিষেই সব ক্ষতে প্রলেপ দিল। এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট টেবিলে বড় লাফ দিয়েছে টুর্নামেন্টের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। সাত ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে।

এমবাপে ও ভিনিসিউসের দুর্দান্ত রসায়ন

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল রিয়াল।

  • ৫ম মিনিট: ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ফেদেরিকো ভালভের্দের পাস থেকে দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে।
  • ২৬তম মিনিট: আবারও এমবাপে ঝলক। তবে এই গোলটির মূল কারিগর ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দ্রুতগতিতে ডি-বক্সে ঢুকে তিনি পাস বাড়ান এমবাপের দিকে। ফরাসি তারকা ভুল করেননি, ঠান্ডা মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

এই গোলের মাধ্যমে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১১-তে, যা এক আসরে তার সর্বোচ্চ।

ভিনিসিউসের একক আধিপত্য ও মাস্তানতুয়োনোর গোল

শুধুমাত্র গোল করানোতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না ভিনিসিউস। বাঁ দিক দিয়ে তার মুহূর্মুহু আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল মোনাকোর রক্ষণভাগ।

  • দ্বিতীয়ার্ধের শুরু: দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ভিনিসিউসের বাড়ানো বল থেকেই দলের তৃতীয় গোলটি করেন তরুণ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো।
  • আত্মঘাতী গোল: এর কিছুক্ষণ পরেই ভিনিসিউসের ক্রস আটকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন মোনাকোর ডিফেন্ডার টিলো কেহরাহ।
  • ভিনিসিউসের গোল: ম্যাচের ৬৩ মিনিটে নিজের প্রাপ্য গোলটি পান ভিনিসিউস। আর্দা গিলের পাসে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে তিনি স্কোরলাইন ৫-০ করেন।

রক্ষণ ও মাঝমাঠের দৃঢ়তা

রিয়াল আক্রমণের পাশাপাশি গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াও ছিলেন দুর্দান্ত। মোনাকো বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আনসু ফাতির মিস এবং জর্ডান টেজের বারে লেগে ফিরে আসা শট মোনাকোর দুর্ভাগ্যই বলা চলে। তবে কোর্তোয়া বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন।

যদিও ৭২ মিনিটে নিজেদের ভুলে একটি গোল হজম করতে হয় রিয়ালকে। দানি সেবাইয়োসের ভুলে বল পেয়ে মোনাকোর হয়ে সান্তনাসূচক গোলটি করেন টেজে। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ৮০ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম দলের হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করে মোনাকোর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থান

ম্যাচটিতে বল দখল এবং আক্রমণে দুই দল প্রায় সমানে সমান ছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ২৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে এবং প্রতিটিই গোলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে মোনাকো ২০টি শট নিয়েও ফিনিশিংয়ের অভাবে মাত্র একটি গোল করতে পারে।

এই জয়ের ফলে স্বস্তি ফিরেছে মাদ্রিদ শিবিরে। পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে আসা এবং এমবাপে-ভিনিসিউসের ফর্মে ফেরা দলটির জন্য আগামী ম্যাচগুলোর আগে বড় টনিক হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, ৯ পয়েন্ট নিয়ে মোনাকো নেমে গেছে ২০ নম্বরে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!