হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআবহাওয়াঠান্ডা নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর: ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত
spot_img

ঠান্ডা নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর: ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

পৌষের মাঝামাঝি সময়ে এসে শীত তার আসল রূপ দেখাতে শুরু করেছে। হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে ঘুম ভাঙতেই নগরবাসী দেখলো কুয়াশার চাদরে মোড়ানো আকাশ। সূর্যমামা উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও মেঘ আর কুয়াশার দাপটে তা ম্লান হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ সকালে শীত ও কুয়াশা নিয়ে নতুন করে বার্তা দিয়েছে, যা শীতকাতুরে মানুষের জন্য কিছুটা দুঃসংবাদের মতোই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারাদিন আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সেই সাথে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।

ঢাকার আজকের আবহাওয়া পরিস্থিতি

সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সাধারণত আকাশ মেঘলা থাকলে সূর্যের তাপ মাটিতে পৌঁছাতে পারে না, ফলে দিনের বেলাতেও শীতের তীব্রতা কমে না। আজকের দিনটিও তেমনই একটি দিন হতে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, আজকের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় এবং কুয়াশা থাকার কারণে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হবে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা বেশি থাকলে শীতের কামড় শরীরে বেশি অনুভূত হয়, যা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন রাজধানীবাসী।

তাপমাত্রা ও বাতাসের গতিবেগ

শীতের তীব্রতা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো উত্তরের হিমেল হাওয়া। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এই বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। হিমালয় থেকে আসা এই উত্তর-পশ্চিমের বাতাসই মূলত বাংলাদেশে হাড়কাঁপানো শীত নিয়ে আসে। বাতাসের এই গতিবেগের কারণে বাইরে বের হলে মানুষের শরীরে ঠান্ডার অনুভূতি অনেক বেশি হচ্ছে।

তাপমাত্রার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও এটি খুব নিচু তাপমাত্রা নয়, তবুও বাতাসের কারণে এটি অনেক কম মনে হচ্ছে। গতকাল (রবিবার) এই এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭.৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

লক্ষ্য করার বিষয় হলো, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য খুবই কম। যখন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসে, তখন দিনভর তীব্র শীত অনুভূত হয়। আজ মাত্র ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো ব্যবধান থাকায় দুপুর গড়ালেও শীত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ঘন কুয়াশার দাপট ও সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। ভোর থেকেই ঢাকার রাস্তাঘাট কুয়াশায় ঢাকা ছিল। দৃষ্টিসীমা কমে আসায় রাস্তায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে চালকদের।

ঘন কুয়াশার কারণে শুধু সড়কপথ নয়, নৌপথ এবং আকাশপথেও শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে। আবহাওয়া অফিস থেকে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে যারা ভোরে বা রাতে যাতায়াত করেন, তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

জনজীবনে শীতের প্রভাব

টানা কয়েকদিনের শীতে এবং আজকের মেঘলা আবহাওয়ায় ঢাকার জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং শ্রমজীবীরা পড়েছেন বিপাকে। রিকশাচালক, দিনমজুর এবং ফুটপাতের দোকানিরা শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নেমেছেন।

সকালবেলা অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। গরম কাপড়ে শরীর মুড়িয়েও হিমেল বাতাসের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বাসস্টপগুলোতে যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে, কিন্তু বাসের সংখ্যাও যেন কিছুটা কম। কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে ঢাকার সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগেও প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও করণীয়

হঠাৎ করে জেঁকে বসা এই শীতে বাড়ে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই আবহাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সময়ে ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে কান ও গলা ঢেকে রাখতে হবে।

শীতের এই সময়ে সুস্থ থাকতে কিছু পরামর্শ:

  • বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক এবং গরম কাপড় পরিধান করুন।
  • কুয়াশা ও ধুলাবালি থেকে বাঁচতে চশমা ব্যবহার করা ভালো।
  • হালকা গরম পানি পান করা এবং ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
  • শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
  • বয়স্কদের ভোরবেলা বা অধিক রাতে বাইরে না বের হওয়াই ভালো।

সন্ধ্যার পূর্বাভাস ও সূর্যাস্ত

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২১ মিনিটে। সূর্য ডোবার পরপরই তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করবে এবং রাতের বেলা শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু আকাশ আংশিক মেঘলা, তাই রাতের তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।

সব মিলিয়ে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজকের বার্তায় আপাতত শীত কমার কোনো সুখবর নেই। বরং আগামী কয়েকদিন এই কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই নগরবাসীকে প্রস্তুতি নিয়েই ঘর থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতি তার নিয়মেই ঋতু পরিবর্তন করে, আর এই শীতে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়াই হোক আমাদের মানবিক দায়িত্ব।

ঠান্ডা নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: আজকের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

উত্তর: আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

প্রশ্ন: আজ ঢাকায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: আজ ঢাকায় বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ এবং উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮-১২ কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস বইছে। বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতা ও গতির কারণেই ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

প্রশ্ন: আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত?

উত্তর: আজকের (২৯ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রশ্ন: কুয়াশা পরিস্থিতি কেমন থাকবে?

উত্তর: আজ মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসতে পারে, তাই চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

প্রশ্ন: আজ ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ কোন দিকে?

উত্তর: আজ ঢাকায় বাতাস উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইছে এবং এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার।

প্রশ্ন: গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত ছিল?

উত্তর: গতকাল (রবিবার) ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭.৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রশ্ন: আজ সূর্য কখন অস্ত যাবে?

উত্তর: আজ সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে সূর্য অস্ত যাবে।

প্রশ্ন: আকাশ কি আজ পরিষ্কার থাকবে?

উত্তর: না, আজ সকাল থেকেই আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘলা আকাশ ও কুয়াশার কারণে রোদ কম দেখা যেতে পারে।

প্রশ্ন: এই শীতে কাদের বেশি সতর্ক থাকা উচিত?

উত্তর: এই আবহাওয়ায় শিশু এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি থাকে। তাই তাদের ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশা থেকে দূরে রাখা এবং গরম কাপড় ব্যবহার করা উচিত।

প্রশ্ন: পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা আবহাওয়া কেমন থাকতে পারে?

উত্তর: সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে এবং আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!