হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeইসলাম ও জীবনশরীরে ট্যাটু থাকলে কি নামাজ কবুল হবে? ইসলাম কী বলে জেনে নিন
spot_img

শরীরে ট্যাটু থাকলে কি নামাজ কবুল হবে? ইসলাম কী বলে জেনে নিন

বর্তমান যুগে ফ্যাশন ও আধুনিকতার অংশ হিসেবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকার প্রবণতা বাড়ছে। তবে মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রতিটি কাজ কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী হওয়া জরুরি। সৌন্দর্যচর্চার নামে আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন আনা ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে শরীরে ট্যাটু থাকলে কি নামাজ হবে?

চলুন, এই বিষয়ে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা ও ফতোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

ইসলামে ট্যাটু বা উল্কি আঁকার বিধান

ইসলামি শরিয়তে শরীরে স্থায়ী ট্যাটু বা উল্কি আঁকা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কাজের জন্য কঠোর সতর্কতা ও অভিশাপ বাণী উচ্চারণ করেছেন। বুখারি শরিফের এক হাদিসে এসেছে:

‘আল্লাহ ওইসব নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা উল্কি অঙ্কন করে বা করায়, সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে; তারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।’ (বুখারি, হাদিস: ৪৮৮৬)

পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই এই বিধান সমানভাবে কার্যকর। আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক অবয়বে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ।

ট্যাটু থাকলে কি নামাজ ও ওজু হবে?

ট্যাটু থাকা অবস্থায় নামাজ কবুল হওয়া নিয়ে প্রধানত দুটি বিষয় লক্ষ্য করা হয়:

১. ওজু ও গোসলের পবিত্রতা: যদি ট্যাটু বা উল্কি এমন হয় যে, তা চামড়ার ওপর একটি আবরণ তৈরি করে এবং অজু বা গোসলের সময় পানি চামড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে ওজু-গোসল শুদ্ধ হবে না। আর ওজু শুদ্ধ না হলে নামাজও সহিহ হবে না।

২. চামড়ার নিচে কালির প্রবেশ: আধুনিক পদ্ধতিতে চামড়ার নিচে সুঁই দিয়ে কালি প্রবেশ করিয়ে যে ট্যাটু করা হয়, তাতে যদি চামড়ার উপরিভাগে পানি পৌঁছাতে বাধা না থাকে, তবে ওজু ও গোসল হয়ে যাবে এবং নামাজও আদায় হবে। তবে কাজটির জন্য তওবা করা জরুরি।

যদি ট্যাটু করা হয়ে যায়, তবে করণীয় কী?

কেউ যদি না বুঝে বা আবেগের বশে আগে থেকেই ট্যাটু করে থাকেন, তবে তার জন্য নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এক্ষেত্রে করণীয় হলো:

  • অপসারণের চেষ্টা: যদি ট্যাটুটি সহজে এবং বড় ধরনের কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়া অপসারণ করা সম্ভব হয়, তবে তা তুলে ফেলা জরুরি।
  • সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা: ট্যাটু তোলা যদি অত্যন্ত ব্যয়বহুল বা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে ওই অবস্থায় নামাজ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ কোনো অবস্থাতেই নামাজ ত্যাগ করার সুযোগ নেই।
  • আন্তরিক তওবা: ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে। আল্লাহ পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল।

ইসলাম কি সৌন্দর্যচর্চায় বাধা দেয়?

ইসলাম একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর জীবনব্যবস্থা। ইসলাম সৌন্দর্যচর্চাকে উৎসাহিত করে কিন্তু বিকৃতিকে নয়। সুরা আল-আ‘রাফের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সৌন্দর্য গ্রহণ করো।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।” কিন্তু এই সৌন্দর্য হতে হবে মার্জিত এবং আল্লাহর সৃষ্টির স্বাভাবিকতা বজায় রেখে। দাঁত কেটে সরু করা, ভ্রু প্লাক করা কিংবা স্থায়ী ট্যাটু আঁকা এই ধরনের পরিবর্তনগুলো ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


শরীরে ট্যাটু করা একটি গুনাহের কাজ হলেও এর কারণে কেউ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না। তাই যাদের ট্যাটু আছে, তাদের উচিত দ্রুত তা সরিয়ে ফেলা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। যারা ট্যাটু তুলতে পারছেন না, তারা যেন নিয়মিত ইবাদত চালিয়ে যান এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন। ইসলামের মূল লক্ষ্য হলো অন্তর ও বাহির উভয়কে পবিত্র রাখা।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!