আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ডা. তাসনিম জারা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনের জন্য তোলা গণতহবিল বা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের টাকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল। অবশেষে সেই টাকা ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তাসনিম জারা।
ক্রাউড ফান্ডিংয়ের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাসনিম জারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। তার জনপ্রিয়তার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ব্যাপক সাড়া পান। তথ্যমতে, দল থেকে পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
তবে গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপরই তিনি জানিয়েছিলেন, যারা দলীয় প্রার্থী ভেবে টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় টাকা ফেরত চান, তাদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
কবে এবং কীভাবে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে?
সোমবার একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাসনিম জারা টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। যারা তাদের দেওয়া অর্থ ফেরত নিতে আগ্রহী, তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তাসনিম জারা বলেন, “যারা টাকা ফেরত চান, তাদের আমরা একটি ফরম পূরণ করে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছি। ইতিমধ্যে অনেকেই ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। এখনো যারা ফেরত চাননি বা দ্বিধায় আছেন, তাদেরও অনুরোধ করব আপনারা আমাদের জানান। যারা ফেরত চাইবেন, প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।”
তিনি বিষয়টি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে দেখছেন এবং দাতা সদস্যদের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেছেন।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া
ডা. তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি আকস্মিকভাবে দল থেকে পদত্যাগ করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি ঘোষণা দেন যে, তিনি কোনো দলের ব্যানারে নয়, বরং ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
তার এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে তার অনুসারীদের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। পদত্যাগের পর তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়ন বাতিল ও আপিল প্রসঙ্গ
নির্বাচনের মাঠে নামার শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এই আলোচিত প্রার্থী। গত ৩ জানুয়ারি ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তার জমা দেওয়া ভোটারদের স্বাক্ষরের তালিকায় দুইজনের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়া গেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। নির্বাচন কমিশন থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে (Random Sampling) যাচাই করার সময় যদি কোনো স্বাক্ষরে অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে। তাসনিম জারার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।
তবে তিনি দমে যাননি। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইতিমধ্যে আপিল করেছেন। তাসনিম জারা আশাবাদী যে, আপিল শুনানিতে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন এবং ঢাকা-৯ আসনের জনগণের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ হওয়ার কারণে তাসনিম জারার প্রতিটি পদক্ষেপেই সাধারণ মানুষের নজর রয়েছে। বিশেষ করে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মতো একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অর্থ সংগ্রহের পর, সেই টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা তার সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে সামনে এনেছে। এখন সবার চোখ নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির দিকে তিনি কি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকতে পারবেন? সেটিই এখন দেখার বিষয়।








