বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অর্থায়নকে আরও গতিশীল করতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স সামিট ২০২৬’। এই সম্মেলনে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ।
ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, উদ্ভাবন-নির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরবেন। উল্লেখ্য যে, এই সম্মেলনটি বাংলাদেশে অবস্থিত সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সরাসরি সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ: একজন দক্ষ নীতিনির্ধারকের প্রোফাইল
রেহান এ. আসাদ একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট এবং গ্লোবাল বিজনেস অপারেশনে তার রয়েছে দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা। বর্তমানে তিনি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
তার হাত ধরেই বাংলাদেশে বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে চলছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজ ও সেবাকে আরও সহজ করা।
- সাইবার সিকিউরিটি: ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অপরাধ দমনে দেশের সাইবার সুরক্ষা দেয়াল আরও মজবুত করা।
- স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম: নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগ এবং কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
- ডিজিটাল গভর্নেন্স: সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
সামিটে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স সামিট ২০২৬-এ রেহান এ. আসাদ মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
১. ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ: তিনি মনে করেন, একটি স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে হলে আমাদের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও উন্নত করতে হবে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য।
২. উদ্ভাবন-চালিত প্রবৃদ্ধি: ঐতিহ্যগত ব্যবসার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে বড় করা যায়, সেই বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দেবেন। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের মতো উদ্যোগগুলো কীভাবে তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি করছে, তাও আলোচনায় উঠে আসবে।
৩. টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের অর্থনীতিকে আরও সহনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে, তা হবে এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
স্মার্ট বাংলাদেশের পথে স্মার্ট অর্থনীতি
বাংলাদেশ যখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রযুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই সম্মেলনে উপদেষ্টা আসাদ দেখাবেন কীভাবে প্রযুক্তিকে কেবল বিলাসিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
তার নেতৃত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বর্তমানে এমন কিছু কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছে যা দেশের তরুণ প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করে তুলছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গবেষণার কাজেও নতুন গতি এসেছে।
সহযোগিতায় যারা আছেন
এই বড় আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান। সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ছাড়াও এখানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে:
- লাইটক্যাসেল পার্টনারস (LightCastle Partners)
- স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (Startup Bangladesh Limited)
- ইউনাইটেড নেশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (UNCDF)
- ওয়ান ট্রু ভ্যালু (OneTrueValue)
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস বাংলাদেশের ফাইন্যান্স ও টেকনোলজি সেক্টরে এক নতুন বিপ্লব ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স সামিট ২০২৬’ শুধুমাত্র একটি আলোচনা সভা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির একটি ডিজিটাল রোডম্যাপ। উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদের মতো দক্ষ নীতিনির্ধারকের উপস্থিতি এই সামিটকে আরও বেশি অর্থবহ করে তুলবে। তার দেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ দ্রুতই একটি স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক দেশে পরিণত হবে।








