দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন এই দাম নির্ধারণ করেছে। এবার ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের এখন গুনতে হবে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭ ৯ টাকা।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
ঝটপট দেখে নেওয়া যাক কেন হঠাৎ স্বর্ণের দাম বাড়ল এবং কোন ক্যারেটের স্বর্ণ এখন কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেন বাড়ল স্বর্ণের দাম?
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচামালের দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং দেশীয় জুয়েলারি বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে বাজুসের দর নির্ধারণ ও দর পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানভিত্তিক বাজারের ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আসে। আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দামের প্রভাব সরাসরি পড়ে খুচরা বিক্রয়মূল্যে।
নতুন তালিকায় কোন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কত?
বাজুসের দেয়া সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ভ্যাটসহ দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের বর্তমান খুচরা মূল্য নিচে দেওয়া হলো:
- ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৫ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।
পরবর্তী নির্দেশ বা নতুন বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর বহাল থাকবে।
গয়না কেনার ক্ষেত্রে মজুরি ও ভ্যাটের নিয়ম
জুয়েলারিতে গিয়ে কেনাকাটা করার সময় ক্রেতাদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। বাজুস স্পষ্ট করেছে যে:
১. ভ্যাট অন্তর্ভুক্তি: স্বর্ণ ও রৌপ্যের উল্লেখিত বিক্রয়মূল্যের সাথে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট যুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা করে বাড়তি ভ্যাট দাবি করা যাবে না।
২. মজুরি ব্যবস্থা: অলঙ্কারের আকৃতি ও মনকাড়া ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে প্রতি দোকানে নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি যুক্ত হবে।
৩. পুরাতন স্বর্ণ বিনিময় (Exchange & Purchase): সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের দাম বাদ দিয়ে পুরাতন অলঙ্কার পরিবর্তন বা জুয়েলারির কাছে বিক্রি করার ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়মই অপরিবর্তিত থাকবে।
একদিনের ব্যবধানে উল্টো চিত্র: কমে আবার বাড়ল দাম
স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতা এখন তুঙ্গে। এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছিল।
শুক্রবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই সমপরিমাণ টাকা অর্থাৎ ২ হাজার ১৫৮ টাকাই আবার বাড়িয়ে দিল বাজুস। ফলে একদিনের ব্যবধানে দর আবার পূর্বের উর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে এলো।
চলতি বছরে স্বর্ণের দামে রেকর্ড ওঠানামা
স্বর্ণের বাজারে দাম বাড়া-কমার খেলা চলতি বছরে বেশ চোখে পড়ার মতো। বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১০৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
- দাম বেড়েছে: ৫২ বার
- দাম কমেছে: ৫১ বার
- ভ্যাট সমন্বয়: ১ বার
এর আগে বিগত বছরটিতে (২০২৫ সাল) দেশের বাজারে সর্বমোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
চলতি বছরের এই ঘন ঘন পরিবর্তন স্পষ্ট করে যে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় তেজাবি স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা এখনো দূর হয়নি।
কেন স্বর্ণের বাজারে এই ঘন ঘন পরিবর্তন?
সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী সবার মনেই প্রশ্ন থাকে স্বর্ণের দাম এত দ্রুত কেন বদলায়?
মূলত বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক ওঠানামা, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ নীতি, মার্কিন ডলারের মান এবং স্থানীয় কাঁচামালের স্বল্পতার কারণেই প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে বাজুসকে দাম নতুন করে সমন্বয় করতে হয়। সাধারণ ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেকোনো অলঙ্কার কেনার আগে প্রতিদিনের বাজুস নির্ধারিত অফিসিয়াল রেট চেক করে জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার জন্য।








