হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Wednesday, August 19, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeইসলাম ও জীবনসুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়ার দোয়া: নেককার স্বামী বা স্ত্রী লাভের আমল
spot_img

সুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়ার দোয়া: নেককার স্বামী বা স্ত্রী লাভের আমল

বিয়ে মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এটি কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, বরং দুটি পরিবারের বন্ধন এবং ঈমান পূর্ণ করার মাধ্যম। প্রতিটি অবিবাহিত যুবক-যুবতীর স্বপ্ন থাকে একজন সুন্দর, মনের মতো এবং দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পাওয়ার। কিন্তু বর্তমান যুগে সঠিক এবং নেককার জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া যেন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেক সময় দেখা যায়, ভালো যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিয়েতে বিলম্ব হচ্ছে অথবা মনের মতো মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। এই হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত পথে চলা। আপনি যদি ইন্টারনেটে “সুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়ার দোয়া” খুঁজে থাকেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এখানে আমরা পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে পরীক্ষিত দোয়া, আমল এবং গাইডলাইন বিস্তারিত আলোচনা করব, যা ইনশাআল্লাহ আপনার বিয়ের পথকে সহজ করে দেবে।

ইসলামে বিবাহ ও সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচনের গুরুত্ব

ইসলামে বৈরাগ্যবাদের কোনো স্থান নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়েকে তার সুন্নাত হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং একে “ঈমানের অর্ধেক” বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু কেন বিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ?

প্রথমত, বিয়ে মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচায় এবং দৃষ্টিকে সংযত রাখে। দ্বিতীয়ত, একটি সুস্থ সমাজ গঠনে নেককার পরিবারের বিকল্প নেই। আর নেককার পরিবার গঠনের প্রথম ধাপ হলো সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা।

ইসলামে “সুন্দর” জীবনসঙ্গী বলতে কেবল ফর্সা গায়ের রং বা আকর্ষণীয় চেহারা বোঝায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন নারীকে (বা পুরুষকে) চারটি গুণের ভিত্তিতে বিয়ে করা হয় তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারি। এরপর তিনি বলেন, “তোমরা দ্বীনদারি বা ধার্মিকতাকে প্রাধান্য দাও, নতুবা তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)।

সুতরাং, সুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়ার আমল করার সময় আমাদের নিয়ত ঠিক করতে হবে যে, আমরা এমন সঙ্গী চাই যার চরিত্র সুন্দর এবং যে আল্লাহকে ভয় করে।

সুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া গুলো

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এমন কিছু আয়াত নাজিল করেছেন, যা আমল করলে মানুষের রিজিক এবং পারিবারিক জীবনের সমস্যা দূর হয়। বিয়েও রিজিকের একটি অংশ। নিচে এমন ৩টি শক্তিশালী কোরআনি দোয়া উল্লেখ করা হলো যা নেককার স্বামী বা স্ত্রী পাওয়ার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

১. সূরা আল-ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত (সবচেয়ে কার্যকরী দোয়া)

এটি নেককার জীবনসঙ্গী এবং সন্তান লাভের জন্য কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দোয়া। যারা বিবাহিত এবং যারা অবিবাহিত, উভয়ের জন্যই এই দোয়াটি ফলপ্রসূ।

সূরা আল ফুরকান আরবি উচ্চারণ: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

সূরা আল ফুরকান বাংলা উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইয়ুন, ওয়াজ’আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

বাংলা অর্থ: “হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রী (বা স্বামী) ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের (আল্লাহভীরুদের) জন্য আদর্শস্বরূপ করুন।”

সূরা আল ফুরকান ফজিলত ও আমল: এই দোয়াটি প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর এবং শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সময় পাঠ করবেন। এটি জীবনসঙ্গীকে আপনার জন্য “চোখের শীতলতা” বা প্রশান্তির কারণ হিসেবে তৈরি করে দেয়।

২. সূরা আল-কাসাসের ২৪ নং আয়াত (মুসা আ.-এর দোয়া)

হযরত মুসা (আ.) যখন ফেরাউনের ভয়ে মিসর ছেড়ে মাদিয়ানে চলে গেলেন, তখন তিনি ছিলেন নিঃস্ব, গৃহহীন এবং একা। সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি আল্লাহর কাছে এই দোয়াটি করেছিলেন। এর ফলেই আল্লাহ তাকে থাকার জায়গা, রিজিক এবং একজন নেককার স্ত্রী মিলিয়ে দিয়েছিলেন।

সূরা আল কাসাস আরবি উচ্চারণ: رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

সূরা আল কাসাস বাংলা উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।

বাংলা অর্থ: “হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাজিল করবেন, আমি তো তারই ভিখারি (মুখাপেক্ষী)।”

সূরা আল কাসাস ফজিলত ও আমল: বিয়ের প্রস্তাব আসছে না বা মনের মতো কাউকে পাচ্ছেন না এমন পরিস্থিতিতে এই দোয়াটি দিনে কমপক্ষে ১০০ বার পাঠ করুন। বিশেষ করে আসর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে এই আমলটি অত্যন্ত কার্যকরী।

৩. সূরা আল-আম্বিয়ার ৮৯ নং আয়াত (সন্তান ও পরিবারের জন্য)

হযরত যাকারিয়া (আ.) নিঃসন্তান ছিলেন এবং বার্ধক্যে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তখন তিনি আল্লাহর কাছে একাকীত্ব থেকে মুক্তির জন্য এই দোয়া করেছিলেন।

সূরা আল আম্বিয়া আরবি উচ্চারণ: رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

সূরা আল আম্বিয়া বাংলা উচ্চারণ: রাব্বি লা তাযারনি ফারদান ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসিন।

বাংলা অর্থ: “হে আমার রব! আমাকে একা (নিঃসঙ্গ) রেখো না। তুমিই তো উত্তম ওয়ারিশ।”

সূরা আল আম্বিয়া আমল: যদিও এটি সন্তান লাভের দোয়া হিসেবে পরিচিত, কিন্তু মুফাসসিরগণ বলেন, যারা একাকীত্ব ঘোচাতে চান এবং জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, তাদের জন্যও এই দোয়াটি প্রযোজ্য। সেজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে এই আয়াতের মাধ্যমে মিনতি করুন।

ভালো স্ত্রী পাওয়ার দোয়া

ছেলে ও মেয়েদের জন্য কি আলাদা কোনো আমল আছে?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ছেলে এবং মেয়েদের জন্য কি আলাদা কোনো দোয়া আছে? মূলত কুরআনের দোয়াগুলো সবার জন্য সমান। তবে প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় কিছু আমল ও চাওয়ার পদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকতে পারে।

ভালো স্ত্রী পাওয়ার দোয়া (ছেলেদের জন্য)

একজন পুরুষের জন্য নেককার স্ত্রী পাওয়া মানে দুনিয়ার জান্নাত পাওয়া। ছেলেরা যখন দোয়া করবেন, তখন সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াতের পাশাপাশি সূরা আর-রূম এর ২১ নং আয়াতটি স্মরণ করতে পারেন।

আমল: ছেলেরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর ইয়া লতিফু (يَا لَطِيفُ) এবং ইয়া ওয়াদুদু (يَا وَدُودُ) ১০০ বার পাঠ করতে পারেন। আল্লাহর এই নামগুলোর উসিলায় মানুষের মনের কঠোরতা দূর হয় এবং ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। এছাড়া, বিয়ের সামর্থ্য অর্জনের জন্য হালাল উপার্জনের চেষ্টা করাও একটি বড় ইবাদত।

ভালো স্বামী পাওয়ার দোয়া ও আমল (মেয়েদের জন্য)

মেয়েদের জন্য বিষয়টি একটু বেশি সংবেদনশীল, কারণ তারা সাধারণত প্রস্তাবের অপেক্ষায় থাকেন। এক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা বা ‘সবর’ করা সবচেয়ে বড় আমল।

আমল: মেয়েরা ফজর নামাজের পর সূরা ইয়াসিন এবং এশার নামাজের পর সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করতে পারেন। বুজুর্গরা বলেন, সূরা ইয়াসিন যে উদ্দেশ্যে পড়া হয়, আল্লাহ তা কবুল করেন। এছাড়া, তাহাজ্জুদের নামাজে সিজদায় গিয়ে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে মনের আকুতি তুলে ধরুন। বলুন, “হে আল্লাহ, আমাকে এমন একজন অভিভাবক ও স্বামী দান করুন যে আমাকে আপনার পথে চলতে সাহায্য করবে।”

দ্রুত বিয়ে হওয়ার এবং মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার ৫টি পরীক্ষিত আমল

দোয়া করার পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নিচে ৫টি পরীক্ষিত আমল দেওয়া হলো যা আপনার দোয়া কবুলের পথ সুগম করবে:

১. নামাজ পড়া ও হালাল রিজিক

আপনি আল্লাহর কাছে চাইবেন, অথচ তার হুকুম মানবেন না এটি হতে পারে না। ৫ ওয়াক্ত নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করুন। ছেলেদের ক্ষেত্রে হারাম উপার্জন বা হারাম সম্পর্ক থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে। হারাম শরীরে দোয়া কবুল হয় না।

২. ইস্তেগফার পাঠ (তওবা করা)

আমাদের গুনাহের কারণে অনেক সময় রিজিক ও বিয়ে আটকে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তাকে সব সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন।” (আবু দাউদ)। তাই দিনে অন্তত ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করুন।

৩. দুরূদ শরীফ পাঠ

দোয়ার আগে এবং পরে দুরূদ শরীফ পাঠ করলে সেই দোয়া আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছায়। এটি দোয়া কবুলের চাবিকাঠি। যেকোনো আমল শুরু করার আগে ৩ বার বা ১১ বার দুরূদ শরীফ পড়ুন।

৪. তাহাজ্জুদ নামাজ

রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন। তখন যে দোয়া করা হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করুন এবং চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে জীবনসঙ্গী চান।

৫. দান-সদকা করা

সদকা করলে বিপদ ও বালা-মুসিবত দূর হয়। আপনার বিয়ের পথে যদি কোনো অদৃশ্য বাধা থাকে, তবে সাধ্যমতো এতিম বা গরিবকে দান করুন। এটি আল্লাহর রহমতকে ত্বরান্বিত করে।

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা

আমরা দোয়া করব, কিন্তু পাত্র বা পাত্রী দেখার সময় যদি ইসলামের নির্দেশনা না মানি, তবে সেই দোয়ার ফলাফল স্থায়ী হবে না। রাসুল (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ী:

  • দ্বীনদারিকে অগ্রাধিকার: পাত্র বা পাত্রী নামাজি কিনা, আল্লাহকে ভয় করে কিনা এটা সবার আগে দেখুন।
  • চারিত্রিক সৌন্দর্য: শুধু মুখের সৌন্দর্য নয়, তার ব্যবহার এবং আখলাক কেমন তা যাচাই করুন।
  • সমতা (কুফু): শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক স্ট্যাটাস এবং মানসিকতার মিল আছে কিনা তা দেখা ইসলামে বৈধ। এটি ভবিষ্যৎ কলহ রোধ করে।

শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের মোহে পড়ে এমন কাউকে নির্বাচন করবেন না, যে আপনাকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত সময়গুলো কী কী?

সব সময় দোয়া করা যায়, তবে কিছু বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দোয়া কবুলের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ:

  • বৃষ্টির সময়: যখন বৃষ্টি পড়ে তখন দোয়া কবুল হয়।
  • আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়: এই সময়ে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
  • সেজদারত অবস্থায়: বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে থাকে।
  • জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত: আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টিতে দোয়া কবুল হয়।
  • রোজাদারের ইফতারের মুহূর্ত।

সুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়া আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এই নেয়ামত জোর করে আদায় করা যায় না, বরং বিনয়, ধৈর্য এবং দোয়ার মাধ্যমে চেয়ে নিতে হয়।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না বা হতাশ হবেন না। মনে রাখবেন, আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। হয়তো আপনার বিলম্বের মধ্যেই বড় কোনো কল্যাণ লুকিয়ে আছে। উপরে উল্লেখিত সুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়ার দোয়া এবং আমলগুলো একিন ও বিশ্বাসের সাথে পালন করুন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনার জন্য এমন একজন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করে রেখেছেন, যে আপনার ইহকাল ও পরকালের শান্তির কারণ হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নেককার জীবনসঙ্গী দান করুন এবং আমাদের দাম্পত্য জীবনকে সুখের করুন। আমিন।

jibon songgi paoyar doya

সুন্দর জীবনসঙ্গী পাওয়ার দোয়া সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য দোয়া করা কি জায়েজ?

উত্তর: হ্যাঁ, নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চাওয়া জায়েজ, যদি সে আপনার জন্য মাহরাম না হয় এবং বিয়েটি বৈধ হয়। তবে দোয়ায় বলা উচিত, “হে আল্লাহ, যদি সে আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তাকে আমার নসিবে মিলিয়ে দিন। আর যদি অকল্যাণকর হয়, তবে তার চেয়ে উত্তম কাউকে দান করুন।” জোর করে নির্দিষ্ট কাউকে চাওয়া সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ আল্লাহ জানেন কিসে আমাদের মঙ্গল।

প্রশ্ন: কত দিন আমল করলে ফলাফল পাওয়া যাবে?

উত্তর: আমলের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ নেই। কারো দোয়া ১ দিনে কবুল হয়, কারো ১ বছর লাগতে পারে। এটি নির্ভর করে আল্লাহর হিকমত এবং আপনার ধৈর্যের ওপর। ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত আমল চালিয়ে যাওয়াই হলো মুমিনের বৈশিষ্ট্য। হতাশ হয়ে আমল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

প্রশ্ন: আমি কি বাংলা ভাষায় নিজের মতো করে দোয়া করতে পারব?

উত্তর: অবশ্যই। আল্লাহ সব ভাষা বোঝেন। নামাজের ভেতরে কোরআনি দোয়াগুলো আরবী উচ্চারণে পড়তে হবে, কিন্তু নামাজের পরে মোনাজাতে বা সেজদায় (নফল নামাজে) আপনি নিজের মাতৃভাষা বাংলায় প্রাণখুলে মনের সব কথা আল্লাহকে বলতে পারবেন।

প্রশ্ন: ইসমে আজম পড়ে দোয়া করলে কি দ্রুত বিয়ে হয়?

উত্তর: হাদিসে এসেছে, ইসমে আজম দিয়ে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। “ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম” (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী) আল্লাহর এই নামগুলোকে অনেকে ইসমে আজম বলেন। দোয়া করার শুরুতে এই নামগুলো ধরে ডাকলে দ্রুত ফলাফল পাওয়ার আশা করা যায়।

প্রশ্ন: বিয়ে আটকে থাকলে কি সূরা বাকারার আমল কাজ করে?

উত্তর: হ্যাঁ। যদি যাদু-টোনা বা বদনজরের কারণে বিয়ে আটকে থাকে, তবে সূরা বাকারা হলো সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক। ঘরে নিয়মিত সূরা বাকারা তেলাওয়াত করলে বা শুনলে শয়তানের প্রভাব দূর হয় এবং বিয়ের বাধা কেটে যায়।

প্রশ্ন: ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার আমল কী?

উত্তর: ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ আমল নেই। তবে উপরে উল্লেখিত সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত এবং সূরা কাসাসের ২৪ নং আয়াত পাঠ করে আল্লাহর কাছে হালাল উপায়ে তাকে চাইতে পারেন। হারাম সম্পর্ক থেকে তওবা করে দোয়া করলে আল্লাহ সহজ করে দেন।

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজে বিয়ের জন্য কীভাবে দোয়া করব?

উত্তর: তাহাজ্জুদের নামাজ শেষে হাত তুলে বা সেজদায় গিয়ে বিনয়ের সাথে বলুন, “হে আল্লাহ, আমি গুনাহগার, কিন্তু আমি পবিত্র থাকতে চাই। আমার জন্য একজন নেককার জীবনসঙ্গীর ব্যবস্থা করে দিন, যার মাধ্যমে আমি আপনার নৈকট্য লাভ করতে পারি।”

প্রশ্ন: পরিবারের অমতে বিয়ে করার জন্য কি কোনো দোয়া আছে?

উত্তর: পরিবারকে রাজি করানোর জন্য আল্লাহর কাছে “ইয়া ওয়াদুদু” পাঠ করে দোয়া করতে পারেন যেন আল্লাহ তাদের মনে কোমলতা সৃষ্টি করেন। তবে মা-বাবার মনে কষ্ট দিয়ে বা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা ইসলাম সমর্থন করে না, এতে বরকত থাকে না।

প্রশ্ন: বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের জন্য কি ইস্তেগফার পড়া যাবে?

উত্তর: বিয়ের আগে অবৈধ সম্পর্ক বা বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচার ইসলামে হারাম। এই সম্পর্কের জন্য ইস্তেগফার পড়া মানে হলো এই গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া এবং সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলা। তবে আপনি যদি তাকে বিয়ে করতে চান, তবে আগে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করুন, তওবা করুন এবং তারপর বিয়ের জন্য পারিবারিকভাবে প্রস্তাব দিন ও দোয়া করুন।

প্রশ্ন: সৌন্দর্য না দ্বীনদারি কোনটিকে প্রাধান্য দেব?

উত্তর: নিঃসন্দেহে দ্বীনদারিকে। রাসুল (সা.) পরিষ্কারভাবে বলেছেন, দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দিলে তুমি সফল হবে। সৌন্দর্য সময়ের সাথে মলিন হয়ে যায়, কিন্তু দ্বীনদারি ও ভালো চরিত্র সারাজীবন সংসারকে সুখের রাখে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!