দেশের ক্রিকেট অঙ্গন এখন উত্তাল। মাঠ প্রস্তুত, গ্যালারির গেট খোলা, এমনকি আম্পায়াররাও তৈরি কিন্তু মাঠে নেই কেবল খেলার মূল কারিগর অর্থাৎ ক্রিকেটাররা। বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত বিপিএল খেলা বর্জন করলেন ক্রিকেটাররা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে মাঠে উপস্থিত হয়নি কোনো দল। ফলে অনুষ্ঠিত হয়নি আজকের দিনের প্রথম ম্যাচের টস। এই অচলাবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে আজকের নির্ধারিত ম্যাচগুলো।
কেন মাঠে নামলেন না ক্রিকেটাররা?
ঘটনার সূত্রপাত বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল হোসেনের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। গত বুধবার তিনি ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্য করে কিছু মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুঁসে ওঠে ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’।
তাৎক্ষণিকভাবে তারা এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং এম নাজমুল হোসেনের পদত্যাগের দাবি তোলে। কোয়াবের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, যতক্ষণ না ওই বিসিবি পরিচালক তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। সেই আল্টিমেটাম অনুযায়ীই আজ বৃহস্পতিবার কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছেন খেলোয়াড়রা।
স্টেডিয়ামের চিত্র ও দর্শকদের হতাশা
আজ বৃহস্পতিবার বিপিএলের দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং নোয়াখালি এক্সপ্রেস-এর। সময়সূচি অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টায় টস হওয়ার কথা। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা সময় পার করে দিলেও দুই দলের কোনো ক্রিকেটারকেই মাঠে দেখা যায়নি।
অথচ মাঠকর্মীরা সকাল থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিলেন। পিচ প্রস্তুত ছিল, বাউন্ডারি লাইন ঠিকঠাক ছিল, এমনকি ক্রিকেটারদের গা গরম করার (Warm-up) সরঞ্জামও সাজানো ছিল। দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হলে অনেক উৎসাহী দর্শক গ্যালারিতে আসনও গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন বোঝা গেল খেলা হচ্ছে না, তখন দর্শকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষের করের টাকায় এবং টিকিটের পয়সায় যে আয়োজন, তা ভেস্তে যাওয়ায় অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
কোয়াবের কঠোর হুঁশিয়ারি ও বোর্ড প্রধানের নীরবতা
ক্রিকেটাররা যে কেবল কথার কথা বলেননি, তা আজকের অনুপস্থিতির মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন। জানা গেছে, বোর্ড প্রধানের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কোনো কার্যকরী সাড়া না মেলায় ক্রিকেটাররা তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
ম্যাচ অফিসিয়ালরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও, খেলোয়াড়দের সাড়া না পেয়ে টস বাতিল করতে বাধ্য হন। ফলে দিনের প্রথম ম্যাচটি যে মাঠে গড়াচ্ছে না, তা এখন নিশ্চিত। এমন নজিরবিহীন ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।
আজকের ম্যাচের ভবিষ্যৎ কী?
প্রথম ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর এখন সবার চোখ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। তবে পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা প্রবল। এই অচলাবস্থা নিরসনে আজ দুপুর ১টায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’।
এই সংবাদ সম্মেলনেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। সেখান থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে আজকের বাকি খেলা এবং বিপিএলের ভবিষ্যৎ। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন সেই সংবাদ সম্মেলনের দিকে। তবে বিসিবি পরিচালক যদি পদত্যাগ না করেন, তবে এই ধর্মঘট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রিকেট ভদ্রলোকদের খেলা। কিন্তু মাঠের বাইরের এই রাজনীতি ও কাদা ছোড়াছুড়ি মাঠের খেলাকে যেভাবে থামিয়ে দিল, তা নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, জল কতদূর গড়ায়।








