সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত: ইসলামে ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) হলো বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে সম্পর্ক মজবুত করার এক অপরিহার্য মাধ্যম। প্রতিটি মুমিন ব্যক্তি দৈনিক জীবনে ছোট-বড় অসংখ্য ভুল করে থাকেন। এই ভুলগুলো থেকে পবিত্রতা লাভের এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো ইস্তেগফার। আর এই ইস্তেগফারগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো ‘সাইয়েদুল ইস্তেগফার’। এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘ক্ষমা প্রার্থনার সর্দার’ বা ‘প্রধান’। এই দু’আটি শুধু পাপ মোচনের উপায় নয়, বরং আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ), তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তাঁর ক্ষমতার ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাসের এক গভীর ঘোষণা। এই প্রবন্ধে আমরা সাইয়েদুল ইস্তেগফারের অর্থ, বাংলা উচ্চারণ, এর ফজিলত এবং জীবনে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার কী?
এই সাইয়েদুল ইস্তেগফার হলো একটি বিশেষ দু’আ, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও এর গুরুত্ব অনেক গভীর ও ব্যাপক। এর মাধ্যমে বান্দা বিনয় ও আনুগত্যের সাথে আল্লাহর দরবারে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে এবং অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। হাদিসে এটিকে এমন দু’আ বলা হয়েছে, যা কেউ দিনের বেলায় পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে পাঠ করে মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে এবং রাতে পাঠ করে মারা গেলেও সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার এর অর্থ ও বাংলা, আরবি উচ্চারণ
ক্ষমা প্রার্থনায় তাওবাহ বা ইসতেগফারের বিকল্প নেই। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনায় কোরআন-সুন্নাহ তে অনেক দোয়া ও ইসতেগফার রয়েছে।
তবে পড়তে সহজ ও ব্যাপক প্রচলিত দোয়ার মাধ্যমেও ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। এমন ই ৫টি দোয়া তুলে ধরা হলো যার মাধ্যমে মুমিন মুসলমান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। আর তা হলো-
أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন। (মিশকাত)
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।
নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করতেন। (বুখারি)
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।
অর্থ : হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।
নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।
অর্থ : আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।
নিয়ম : দিনের যে কোনো ইবাদত-বন্দেগি তথা ক্ষমা প্রার্থনার সময় এভাবে তাওবাহ-ইসতেগফার করা। হাদিসে এসেছে- এভাবে তাওবাহ-ইসতেগফার করলে আল্লাহতাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়। (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)
সাইয়েদুল ইসতেগফার
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগ্ফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি।
আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার এর ফজিলত
সাইয়েদুল ইস্তেগফারের গুরুত্ব স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে তুলে ধরেছেন। এটি শুধু ক্ষমা চাওয়ার দু’আ নয়, বরং জান্নাত লাভের একটি সহজ পথ।
সহীহ বুখারীতে শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন, “সাইয়েদুল ইস্তেগফার হলো বান্দার এ কথা বলা: ‘আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বী… (শেষ পর্যন্ত)।’ যদি কেউ দিনের বেলায় পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে এটি পাঠ করে এবং ঐ দিন সন্ধ্যা আসার আগেই মারা যায়, তবে সে জান্নাতী হবে। আর যদি কেউ রাতে পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে এটি পাঠ করে এবং ভোর হওয়ার আগেই মারা যায়, তবে সে জান্নাতী হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৩০৬)।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ার উপকারিতা
এই সাইয়েদুল ইস্তেগফার নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন ব্যক্তি বহুবিধ উপকারিতা লাভ করতে পারেন:
- নিশ্চিত জান্নাত: হাদিস অনুযায়ী, পূর্ণ বিশ্বাস ও ইখলাসের সাথে পাঠকারীর জন্য এটি জান্নাতে প্রবেশের ওয়াদা।
- সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমা প্রার্থনা: এটি সকল ইস্তেগফারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, কারণ এতে আল্লাহর গুণাবলী ও বান্দার দুর্বলতার নিখুঁত সমন্বয় ঘটেছে।
- ঈমানের নবায়ন: এই দু’আ পাঠের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব) ও উলুহিয়্যাত (ইবাদতের যোগ্য একমাত্র সত্তা) স্বীকার করে নিজের ঈমানকে নবায়ন করে।
- মানসিক শান্তি: পাপের অনুভূতি থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর ক্ষমার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
- নেক আমল বৃদ্ধি: পাপ মোচনের ফলে বান্দার অন্তর পরিশুদ্ধ হয় এবং সে নেক আমলের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ার সঠিক পদ্ধতি
এই সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ার ক্ষেত্রে এর অর্থ এবং উদ্দেশ্য অনুধাবন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শব্দ উচ্চারণ করলেই হবে না, বরং অন্তরে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও অনুতাপ থাকতে হবে।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার এর তাফসীর (ব্যাখ্যা)
এই দু’আর প্রতিটি অংশ গভীর অর্থ বহন করে:
- ‘আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা’: এটি তাওহীদের (একত্ববাদ) চূড়ান্ত ঘোষণা। বান্দা স্বীকার করে যে আল্লাহই তার একমাত্র প্রতিপালক এবং উপাসনার যোগ্য।
- ‘খলাক্বতানী ওয়া আনা আ’বদুকা’: এটি বান্দার অক্ষমতা ও আল্লাহর সৃষ্টিকর্তৃত্বের স্বীকারোক্তি। বান্দা স্বীকার করে যে সে আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁর দাস।
- ‘ওয়া আনা আ’লা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাতা’তু’: এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে সম্পাদিত অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা হলো আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা। ‘সাধ্যমতো’ কথাটি যুক্ত করে বান্দা নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
- ‘আ’উযু বিকা মিন শাররি মা সানা’তু’: বান্দা নিজের কৃতকর্মের খারাপ পরিণতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়।
- ‘আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউ বিযাম্বী’: এটি সবচেয়ে শক্তিশালী স্বীকারোক্তি। বান্দা একদিকে আল্লাহর দেওয়া সব নেয়ামত কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে, আবার অন্যদিকে নিজের ভুলগুলোও বিনয়ের সাথে স্বীকার করে।
- ‘ফাগফির লী ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা’: এটি দু’আর সমাপ্তি, যেখানে চূড়ান্তভাবে আল্লাহর কাছেই ক্ষমা চাওয়া হয়, কারণ তিনি ছাড়া আর কেউ পাপ মোচন করতে পারে না।
কখন পড়তে হবে?
যদিও দু’আটি দিনে একবার এবং রাতে একবার পড়ার কথা বলা হয়েছে, তবুও এটি যেকোনো সময় পড়া যায়। সাধারণত:
- সকালে: ফজরের নামাজের পর অথবা সকালের যিকির হিসেবে।
- সন্ধ্যায়: আসর/মাগরিবের পর অথবা সন্ধ্যার যিকির হিসেবে।
- প্রতিটি সালাতের পর: নিয়মিত ইস্তেগফার হিসেবে।
- বিপদে বা মানসিক অস্থিরতায়: আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় চাওয়ার জন্য।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার ও ইসলামের শিক্ষা
ইসলামে অনুশোচনা ও তওবা একটি মৌলিক শিক্ষা। সাইয়েদুল ইস্তেগফার এই শিক্ষাকেই পরিপূর্ণতা দেয়। এটি শিখিয়ে দেয় যে, ভুল করা মানব প্রকৃতির অংশ, কিন্তু ভুল করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ক্ষমা চাওয়া হলো মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই দু’আটি আল্লাহর গাফফার (অত্যন্ত ক্ষমাকারী) এবং রাহীম (পরম দয়ালু) নামের সার্থক ব্যবহার।
সাইয়েদুল ইস্তেগফারের দ্বারা জীবনে পরিবর্তন
নিয়মিত এবং আন্তরিকভাবে সাইয়েদুল ইস্তেগফার পাঠ একজন ব্যক্তির জীবনে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে:
- আত্ম-জবাবদিহিতা: এই দু’আ বান্দাকে নিজের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে শেখায়, ফলে ভবিষ্যতে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা তৈরি হয়।
- আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: আল্লাহর ক্ষমার ওপর বিশ্বাস বাড়ার ফলে বান্দার মনে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিরতা আসে।
- সম্পর্কের উন্নয়ন: আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হওয়ার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গেও তার আচরণে বিনয় ও নম্রতা আসে।
- জীবিকায় বরকত: ইস্তেগফার আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক ও বরকতের দরজা খুলে দেয় (কুরআন: সূরা নূহ, ৭১:১০-১২)।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার প্রকৃতপক্ষে শুধু কয়েকটি শব্দের সমাহার নয়, বরং এটি একজন মুমিনের ঈমান, আনুগত্য, অনুশোচনা ও প্রত্যাশার এক প্রতিচ্ছবি। এই দু’আর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও নিজের সীমিত সাধ্যের পার্থক্য বুঝতে পারে এবং চূড়ান্তভাবে একমাত্র তাঁরই করুণার ওপর নির্ভরশীল হয়। সায়্যিদুল ইস্তেগফার এর ফজিলত অপরিসীম। প্রত্যেক মুমিনের উচিত এর অর্থ অনুধাবন করে, পূর্ণ বিশ্বাস ও ইখলাসের সাথে দৈনিক এর অনুশীলন করা, যাতে ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করা যায়। নিয়মিত এই দু’আ পাঠের মাধ্যমে আমরা ক্ষমা প্রার্থনার সর্দারকে জীবনের অংশ করে তুলে নিশ্চিত জান্নাতের দিকে যাত্রা করতে পারি।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার কি?
উত্তর: সাইয়েদুল ইস্তেগফার হলো ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দু’আ বা ‘ক্ষমা চাওয়ার সর্দার’, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার এর অর্থ কী?
উত্তর: সাইয়েদুল ইস্তেগফার এর অর্থ হলো “ক্ষমা প্রার্থনার সর্দার” বা “শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার”।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার কখন পড়তে হয়?
উত্তর: সাইয়েদুল ইস্তেগফার সকাল ও সন্ধ্যায় একবার করে পড়া উত্তম, তবে যেকোনো সময় পড়া যায়।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়লে কী হয়?
উত্তর: সাইয়েদুল ইস্তেগফার পূর্ণ বিশ্বাসে পড়লে এবং সেই দিন বা রাতে মৃত্যু হলে জান্নাত লাভের সুসংবাদ রয়েছে।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফারের বাংলা উচ্চারণ কী?
উত্তর: উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগ্ফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।
প্রশ্ন: কোন হাদিসে সাইয়েদুল ইস্তেগফারের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সহীহ বুখারীর ৬৩০৬ নং হাদিসে সাইয়েদুল ইস্তেগফারের ফজিলত এর কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: ইস্তেগফার অর্থ কি?
উত্তর: ইস্তেগফার অর্থ হলো “ক্ষমা প্রার্থনা করা”।
প্রশ্ন: সবচেয়ে ছোট ইস্তেগফার কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে ছোট ইস্তেগফার হলো “আস্তাগফিরুল্লাহ”।
প্রশ্ন: দিনে কতবার ইস্তেগফার পড়া উচিত?
উত্তর: রাসূল (সা.) দিনে ৭০ থেকে ১০০ বারের বেশি ইস্তেগফার করতেন, তাই দৈনিক কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তেগফার পড়া উচিত।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার ছাড়া অন্য কোনো ইস্তেগফার আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি সহ কোরআন ও সুন্নাহতে আরও অনেক ইস্তেগফার আছে।
প্রশ্ন: ইস্তেগফার পড়লে কী লাভ হয়?
উত্তর: ইস্তেগফার পড়লে পাপ মোচন, মানসিক শান্তি, রিজিক বৃদ্ধি, এবং জান্নাত লাভ হয়।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার কেন শ্রেষ্ঠ?
উত্তর: কারণ এতে তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ), রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব), নেয়ামতের স্বীকারোক্তি এবং গুনাহের বিনয়ী স্বীকার রয়েছে।
প্রশ্ন: ইস্তেগফার পড়লে কি রিজিক বাড়ে?
উত্তর: হ্যাঁ, সূরা নূহ-এর ১০-১২ আয়াত অনুসারে, নিয়মিত ইস্তেগফার আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক ও বরকত নিয়ে আসে।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ার নিয়ম কী?
উত্তর: অর্থ অনুধাবন করে এবং পূর্ণ বিশ্বাস ও অনুশোচনার সাথে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে পড়া হলো সঠিক নিয়ম।
প্রশ্ন: ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা’ অর্থ কি?
উত্তর: “আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই”।
প্রশ্ন: তওবা ও ইস্তেগফারের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ইস্তেগফার হলো ক্ষমা চাওয়া; তওবা হলো অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় অঙ্গীকার।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার কোন সময় পড়া জরুরি?
উত্তর: ফজরের পর (সকালে) এবং আসর বা মাগরিবের পর (সন্ধ্যায়) পড়া জরুরি বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
প্রশ্ন: ‘ওয়া আনা আ’বদুকা’ অর্থ কী?
উত্তর: “এবং আমি আপনার বান্দা”।
প্রশ্ন: পাপ মোচনের সেরা দু’আ কোনটি?
উত্তর: সাইয়েদুল ইস্তেগফার হলো পাপ মোচনের সেরা দু’আ।
প্রশ্ন: সালাতের পর কোন ইস্তেগফার পড়তে হয়?
উত্তর: প্রতি ওয়াক্ত সালাতের সালাম ফেরানোর পর তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়তে হয়।
প্রশ্ন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার অর্থ কি?
উত্তর: সাইয়েদুল ইস্তেগফার হলো ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া। এর অর্থ হলো, “হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা, আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর যথাসাধ্যভাবে আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমি আপনার দেওয়া নেয়ামতগুলো স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহগুলোও স্বীকার করছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন, কেননা আপনি ব্যতীত কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না”।
নিচে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া দেয়া হলো
- কালিমা তাইয়্যেবা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ: পূর্ণ ব্যাখ্যা ও ফজিলত
- দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ
- তওবা করার সঠিক নিয়ম ও দোয়া: আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও অন্তরের শান্তি
- আস্তাগফিরুল্লাহ দোয়ার ফজিলত, গুরুত্ব ও পাঠের নিয়ম
- আকিকার দোয়া ও নিয়ম: ইসলামে আকিকার পূর্ণাঙ্গ গাইড
- রিযিক বৃদ্ধির দোয়া ও আমল: ইসলামের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
- কবর জিয়ারতের দোয়া ও নিয়ম: ইসলামের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
- ঘুমানোর দোয়া বাংলায়: রাতের শান্তি ও আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উপায়
- গাড়িতে উঠার দোয়া বাংলা, আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- ইসমে আজম দোয়া বাংলা উচ্চারণ, ফজিলত ও আমলের সঠিক নিয়ম
- সেহরি ও ইফতারের দোয়া: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
- মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া: গুরুত্ব, নিয়ম, আমল ও দোয়ার সংগ্রহ
- দুঃসময়ে পড়ার দোয়া: কষ্ট, দুঃখ ও বিপদে আল্লাহর সাহায্য লাভের আমল
- রোগ মুক্তির দোয়া: কোরআন-হাদিস ভিত্তিক সম্পূর্ণ গাইড (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ)
- রোজার নিয়ত: সিয়াম পালনের সঠিক পদ্ধতি ও দোয়া
- নামাজে সানা বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত সহ সম্পূর্ণ গাইড
- দরুদে ইব্রাহিম বাংলা উচ্চারণ, সহীহ পাঠ, অর্থ ও ফজিলত
- তাশাহুদ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ: সহজ ভাষায় পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক গাইডলাইন








