হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়আজ থেকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক: মিলবে যেসব জাদুকরী সুবিধা
spot_img

আজ থেকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক: মিলবে যেসব জাদুকরী সুবিধা

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশে ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে আজ ১ জুলাই থেকে সারাদেশে ‘বাংলা কিউআর’ (কুইক রেসপন্স) কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের চায়ের দোকান বা কাঁচাবাজার পর্যন্ত সর্বত্র একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই নতুন বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে দেশের সকল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন—বিকাশ, নগদ, রকেট এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

‘বাংলা কিউআর’ আসলে কী?

সহজ কথায় বলতে গেলে, বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত একটি অভিন্ন বা সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম। এত দিন আমরা একেক দোকানে একেক কোম্পানির কিউআর কোড ঝুলতে দেখতাম। যেমন কোনো দোকানে শুধু বিকাশের কিউআর কোড থাকত, আবার কোথাও শুধু নগদের। এর ফলে গ্রাহকদের অনেক সময় পেমেন্ট করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো।

আজ থেকে এই নিয়মে পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এখন থেকে সব প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর কোড সরিয়ে একটিমাত্র ‘বাংলা কিউআর’ কোড প্রতিস্থাপন করতে হবে। এই একটিমাত্র কোড স্ক্যান করেই গ্রাহক বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ থেকে চোখের পলকে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রধান সুবিধাগুলো

এই নতুন ব্যবস্থা চালুর ফলে দেশের সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নানা রকম সুবিধা পাবেন। নিচে প্রধান সুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

১. সর্বজনীনতা ও ঝামেলাহীন লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, আপনি যখন বাজারে কেনাকাটা শেষে এমএফএস-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে চাইলেন, তখন দেখলেন দোকানে শুধু বিকাশের কিউআর কোড আছে অথচ আপনার ফোনে আছে রকেটের অ্যাকাউন্ট। এখন আর এই সমস্যা থাকবে না। দোকানে থাকা একক বাংলা কিউআর কোডটি স্ক্যান করে আপনি বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক অ্যাপ—যেকোনো মাধ্যম থেকেই সহজে পেমেন্ট করতে পারবেন।

২. ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী

প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট বা সোয়াইপ করার জন্য ব্যবসায়ীদের দোকানে একটি ব্যয়বহুল ‘পয়েন্ট অব সেল (POS)’ মেশিন বসাতে হয়, যা ছোট দোকানদারদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলা কিউআর ব্যবহারের জন্য কোনো মেশিনের প্রয়োজন নেই, দোকানে একটি সাধারণ কাগজের কিউআর স্টিকার থাকলেই যথেষ্ট। ফলে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাচালক বা মুদি দোকানদাররাও খুব সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

৩. শতভাগ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক ব্যবস্থা। এটি ব্যবহারে কার্ড ক্লোনিং বা এটিএম পিনের মতো তথ্য চুরির কোনো ঝুঁকি নেই। গ্রাহকের নিজস্ব স্মার্টফোন এবং ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন হয়।

৪. ভাঙতি টাকা ও ক্যাশ বহনের ঝামেলা মুক্তি

বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্সের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানান, দেশের সকল মার্চেন্ট পয়েন্ট অভিন্ন বাংলা কিউআরে রূপান্তরের ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম আরও বিস্তৃত হবে। এর ফলে গ্রাহকদের পকেটে বাড়তি ক্যাশ টাকা বহন বা বাজারে গিয়ে খুচরা বা ভাঙতি টাকার জন্য আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। পাশাপাশি মার্চেন্ট বা বিক্রেতাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।

ব্যাংক ও এমএফএসগুলোর প্রস্তুতি

নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে কাজ করছে। বিকাশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যাত্রাপথে দেশের সকল মার্চেন্ট পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলা কিউআর প্রচলন করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে এবং বর্তমানে কিউআর প্রতিস্থাপনের কাজ পুরোদমে চলছে।

অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের প্রস্তুতির বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, “বাংলা কিউআরের দুইটা ভাগ আছে—ইস্যুয়িং (ক্রেতাদের সুবিধা দেওয়া) এবং অ্যাকোয়ারিং (দোকানে দোকানে কিউআর দেওয়া)। এনআরবিসি ব্যাংক এই দুই ক্ষেত্রেই শতভাগ প্রস্তুত। ইতিমধ্যে আমাদের অনেক মার্চেন্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং প্রতিদিন আমাদের বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে।”


বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থিনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। এর ফলে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষও এখন ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসবে। সরকারের এই ক্যাশলেস উদ্যোগ সম্পর্কে আপনার মতামত কী? আপনি কি কেনাকাটায় কিউআর কোড ব্যবহার করতে পছন্দ করেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান। ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রযুক্তির এমন সব গুরুত্বপূর্ণ খবর সবার আগে পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!