যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়া-কানাডার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি, এর সঙ্গে পর্তুগালও যোগ দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ এ পদক্ষেপে যুক্ত হতে পারে। (সূত্র: বিবিসি বাংলা)
প্রতীকী নাকি বাস্তব পরিবর্তন?
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আসলে বড় এক প্রতীকী উদ্যোগ। কারণ ফিলিস্তিনের এখনো আন্তর্জাতিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখল চলমান, গাজা রূপ নিয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে। বাস্তবে বড় পরিবর্তন না এলেও রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট
১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণায় ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় থেকেই ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি জোরালো হয়। কিন্তু ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আর নানা রাজনৈতিক জটিলতায় সেই স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ।
জাতিসংঘে অবস্থান
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের মর্যাদা স্থায়ী পর্যবেক্ষক হিসেবে সীমিত, তারা সভায় অংশ নিতে পারে, কিন্তু ভোট দিতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা ও ইসরায়েলের ক্ষোভ
এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে মানতে রাজি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পর্যন্ত দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলে হামাস আরও শক্তিশালী হবে।
কেন এখন?
গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট, ইসরায়েলের লাগাতার হামলা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তে থাকা ক্ষোভের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতীকী স্বীকৃতিই ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন প্রশ্নে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।








