যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর হামলার এক ঘটনায় যুক্ত থাকা সন্দেহে যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানকে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯:২৮ মিনিটে নিউইয়র্ক পুলিশের জ্যাকসন হাইটস বিভাগের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ তাকে হাতে কড়া লাগিয়ে আটক করে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ডাঃ তাসনিম জারা। পোস্টে তিনি জানান, “আজ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আমাদের দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর হামলা হয়েছে। তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছে, গালিগালাজ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল ব্যক্তি আখতার হোসেনের ওপর আক্রমণ নয় – তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সংঘটিত। কারণ তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন সেই দলকে, যে দল ফ্যাসিবাদের কাঠামো ভেঙে দিতে কাজ করে।”
হামলার ঘটনার পর আখতার হোসেন নিজেও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “আমরা সেই প্রজন্ম যারা হাসিনার গুলির সামনে দাঁড়াতে ভয় পায়নি। অতএব, কারও ভাঙা ডিমে আমাদের কিছু যায়-আসে না।” এরপর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আওয়ামী লীগের কিছু নেটাওয়ার্ক, জন্মগতভাবে এবং প্রকৃতিগতভাবে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত। যারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা বিদেশেও হামলা চালাচ্ছে।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এসব অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার আহ্বান জানান।
নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত কারণ, গ্রেপ্তারের পরবর্তী আইনগত কার্যালয়ে দায়েরকৃত কোন অভিযোগের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বরাতপ্রাপ্ত সূত্র বলছে, ঘটনার সময় ও স্থান নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও ছবিগুলোকে অপরাধ তদন্তে প্রাথমিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোতে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা এবং উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নিকটাত্মীয় বা আইনজীবীদের কোন বক্তব্য সংবাদ প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আপাতত পাওয়া যায়নি; মামলার পরবর্তী শুনানী ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের বিষয়ে সূত্রভিত্তিক আপডেট আসলে তা অনুসরণ করা হবে।








