হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeব্যবসা ও শিল্পঅর্থসংকটে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো: ৭ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চায় ৯ প্রতিষ্ঠান
spot_img

অর্থসংকটে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো: ৭ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চায় ৯ প্রতিষ্ঠান

বেক্সিমকো গ্রুপকে ৫২৫ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার পর থেকেই সরকারের কাছে ঋণসহায়তা চেয়ে আবেদন বাড়ছে।
গত কয়েক মাসে নয়টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে সুদমুক্ত ঋণের জন্য।
এদের মধ্যে রয়েছে দেশবন্ধু গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, ইফাদ গ্রুপ, র‍্যাংগস গ্রুপ, নাইটিঙ্গেল ফ্যাশন, টিএনজেড গ্রুপ, আরএইচ ডেনিম অ্যান্ড রিসাইক্লিং কম্পোজিট, ফাইয়াজ কম্পোজিট ও জেএস লিংক।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে সরকারের কাছে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি সহায়তা চেয়েছে।
এর মধ্যে অনেকেই বকেয়া বেতন–বোনাস পরিশোধ, কারখানা সচল রাখা বা বন্ধ ইউনিট পুনরায় চালু করতে অর্থ চেয়েছে।

“দাবিগুলো আপাতত যৌক্তিক নয়” গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন,

“আপাতত মনে হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি যৌক্তিক নয়। তবে যৌক্তিক কারণ থাকলে নীতিসহায়তা দেওয়া যেতে পারে, তার বেশি নয়।”

তিনি আরও বলেন, বেক্সিমকোকে সহায়তা দেওয়ার পর থেকেই এমন আবেদন বেড়েছে।

সরকার ইতিমধ্যে দিয়েছে ৭০৭ কোটি টাকা

গত দুই বছরে বেক্সিমকোসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭০৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার, যার বড় অংশ গেছে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে।
শুধু বেক্সিমকো গ্রুপকেই দেওয়া হয়েছে ৫২৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩২৫ কোটি টাকা অর্থ মন্ত্রণালয় ও ২০০ কোটি টাকা শ্রম মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে আসে।

বড় প্রতিষ্ঠানের ঋণসহায়তা আবেদন এক নজরে

দেশবন্ধু গ্রুপ: ২,০০০ কোটি টাকা চায়

গত সেপ্টেম্বরে দেশবন্ধু গ্রুপ সরকারের কাছে ২,০০০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ২৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
কাঁচামালের সংকটে এখন তাদের কয়েকটি কারখানা বন্ধ, এবং উৎপাদন সক্ষমতা নেমেছে ২৫ শতাংশে।

“কারখানা সচল রাখতে ও শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা প্রয়োজন,” চিঠিতে বলা হয়েছে।

যমুনা গ্রুপ: সবচেয়ে বড় দাবি, ৩,০০০ কোটি টাকা

যমুনা গ্রুপ সরকারের কাছে ৩,০০০ কোটি টাকা সুদমুক্ত প্রণোদনা চেয়েছে,
যার মেয়াদ হবে ৫ বছর, সঙ্গে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড।
এই অর্থ শ্রমিকদের বেতন–ভাতা, কাঁচামাল ও পরিষেবা বিল পরিশোধে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে গ্রুপটি।

তবে যমুনা গ্রুপের পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

র‍্যাংগস গ্রুপ: আর্থিক চাপে সহায়তা প্রার্থনা

১৬ অক্টোবর র‍্যাংগস গ্রুপ শ্রম উপদেষ্টার কাছে ৭৫০ কোটি টাকা সহায়তার আবেদন করেছে।
কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে,

  • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা,
  • রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা,
  • উচ্চসুদে ব্যাংকঋণের চাপ,
  • এবং শ্রমিক বেতন পরিশোধে ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

র‍্যাংগস গ্রুপের উপদেষ্টা সদরুল ইসলাম বলেন,

“সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছি। আশা করি, সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।”

ইফাদ গ্রুপ: কারখানা সচল রাখতে ৮৫০ কোটি টাকা চায়

দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক গাড়ি উৎপাদনকারী ইফাদ অটোস ৮৫০ কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ চেয়ে আবেদন করেছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি অশোক লেল্যান্ডের কারিগরি সহায়তায় ধামরাইয়ে গাড়ি উৎপাদন করে।
তারা বলছে, নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও উৎপাদন বজায় রাখতে এই অর্থ সহায়তা প্রয়োজন।

টিএনজেড গ্রুপ: পুরোনো সহায়তার পর আবার আবেদন

টিএনজেড গ্রুপ এবার ৪০ কোটি টাকার নতুন সহায়তা চেয়েছে,
যার বিপরীতে তারা ঢাকার মহাখালীতে সাততলা বাড়ি বন্ধক রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।
এর আগেও সরকার এই গ্রুপকে মোট ৩৮ কোটি টাকা দিয়েছে।

তবে তাদের অন্যতম পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন শামীম বিদেশে অবস্থান করছেন,
যার কারণে আর্থিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

নাইটিঙ্গেল ফ্যাশন: বন্ধ কারখানা চালুতে ৫০০ কোটি টাকা

গাজীপুরের নাইটিঙ্গেল ফ্যাশন তাদের বন্ধ কারখানা চালু করতে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে।
তারা গাজীপুরের ৬০ বিঘা জমি এবং ২১ হাজার বর্গফুট ভবন বন্ধক দিতে রাজি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল সালাম বলেন,

“চার হাজার শ্রমিক কাজ করতেন আমাদের কারখানায়। ব্যাংকের অসহযোগিতায় বন্ধ হয়ে যায়। এখন সরকারের সহায়তায় আবার ঘুরে দাঁড়াতে চাই।”

ছোট ও মাঝারি গ্রুপের আবেদনও কম নয়

এ ছাড়া,

  • আরএইচ ডেনিম অ্যান্ড রিসাইক্লিং কম্পোজিট চেয়েছে ৫০ কোটি টাকা
  • ফাইয়াজ কম্পোজিট ৩০ কোটি
  • জেএস লিংক ৫০ কোটি টাকা

সবগুলো প্রতিষ্ঠানই বলছে, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও উৎপাদন সচল রাখার জন্য এ সহায়তা দরকার।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

শ্রমসচিব সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন,

“সরকার কোনো সরাসরি ঋণ দেয় না। কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে শ্রমিকদের সহায়তা করা হয়। আবেদনগুলো আসছে বেক্সিমকোকে সহায়তা করার পর থেকেই। কিন্তু বেক্সিমকোর সঙ্গে অন্যদের তুলনা করা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন,

“সংকটে না পড়লে তো কেউ আবেদন করত না। তবে এখন কিছু করার থাকলে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকই করতে পারবে।”


বেক্সিমকোকে ঋণ দেওয়ার পর দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো একে একে সরকারের কাছে সাহায্য চাইছে।
এতে একদিকে শিল্পখাতে সংকটের গভীরতা ফুটে উঠছে,
অন্যদিকে সরকারের আর্থিক নীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!