কিয়ামত কী?
ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, কিয়ামত হলো এই পার্থিব জীবনের সমাপ্তি এবং পরকালীন জীবনের সূচনা। এটি সেই মহাদিবস যখন আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে ইসরাফিল (আঃ) শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন এবং পৃথিবী, আকাশমণ্ডল ও এর মধ্যকার সকল সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর দ্বিতীয় ফুঁকের মাধ্যমে সকল মানুষকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করা হবে। কিয়ামতের দিনের পরেই শুরু হবে হিসাব-নিকাশের জীবন এবং চিরস্থায়ী জান্নাত বা জাহান্নামের ফয়সালা। এই ধারণাটি ইসলামের মূল ভিত্তিগুলোর অন্যতম, যা মানুষকে দায়িত্বশীল ও সৎ জীবন যাপনে উৎসাহিত করে। এটি শুধু একটি ঘটনার নাম নয়, বরং এটি সৃষ্টি ও স্রষ্টার সম্পর্কের চূড়ান্ত পর্যায়।
ইসলামে কিয়ামতের অবস্থান ও গুরুত্ব
কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস (আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস) ইসলামের ছয়টি মৌলিক আকিদার মধ্যে তৃতীয়। কুরআন ও হাদিসে এই দিবসের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরা হয়েছে। কিয়ামতের বিশ্বাসই মানুষকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহের ঊর্ধ্বে উঠে আখিরাতের চিরস্থায়ী সাফল্যের জন্য কাজ করতে প্রেরণা যোগায়। এই বিশ্বাস মানুষকে অন্যায়, অবিচার ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, কারণ প্রত্যেককেই তাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে। এর গুরুত্ব এত বেশি যে, আল্লাহ তা’আলা বহুবার কুরআনুল কারিমে শপথ করে এই দিনের অনিবার্যতার কথা ঘোষণা করেছেন। এটি জীবনের উদ্দেশ্য, নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ভিত্তি স্থাপন করে।
কিয়ামতের আলামত জানার উদ্দেশ্য
এই কিয়ামতের আলামত বা নিদর্শনসমূহ জানার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) সৃষ্টি করা এবং গাফিলতি (উদাসীনতা) দূর করা। এই নিদর্শনগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে চলেছি এবং মহাদিবসটি খুব সন্নিকটে। এই জ্ঞান মানুষকে দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ত্যাগ করে পরকালের প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করে। আলামতগুলো মূলত সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করে, যা মুসলমানদেরকে ফিতনা (বিপর্যয়) থেকে বাঁচার জন্য সঠিক পথে অটল থাকতে সাহায্য করে। নবী (সাঃ) এই আলামতগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন যেন উম্মতরা বিভ্রান্ত না হয়।
ছোট ও বড় আলামতের পার্থক্য
কিয়ামতের আলামতসমূহকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: ছোট আলামত (আল-আলামাতুস সুগরা) এবং বড় আলামত (আল-আলামাতুল কুবরা)। ছোট আলামতগুলো সাধারণত কিয়ামতের অনেক আগে থেকেই ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে এবং এর কিছু অংশ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে সমাজের নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবর্তনগুলো নির্দেশিত হয়। অন্যদিকে, বড় আলামতগুলো হলো দশটি সুনির্দিষ্ট, প্রধান এবং অসাধারণ ঘটনা, যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার একদম নিকটবর্তী সময়ে, খুব দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পাবে। বড় আলামতগুলো প্রকাশের পর তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।
কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহ
ছোট আলামত হলো সেই নিদর্শনগুলো যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই সমাজে, মানুষে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখা দিতে শুরু করে। এগুলো প্রকাশিত হতে দীর্ঘ সময় নেয় এবং অনেকগুলো ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়েছে বা পূর্ণ হচ্ছে। এই আলামতগুলো সাধারণত ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, নৈতিকতার পতন, এবং অস্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতি ইঙ্গিত করে। এগুলো আমাদেরকে শেষ সময়ের ফিতনা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সতর্ক করে এবং পরকালীন জীবনের প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আকিদা ও ইমান সংক্রান্ত পরিবর্তন
ইমানের দুর্বলতা বৃদ্ধি
মানুষের অন্তরে ইমানের দৃঢ়তা হ্রাস পাবে এবং ধর্মীয় বিষয়ে সন্দেহ ও সংশয় বেড়ে যাবে। দ্বীনের প্রতি নিষ্ঠা কমে যাবে এবং পার্থিব স্বার্থের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মানুষ ছোট ছোট পাপকে তুচ্ছ মনে করবে এবং বড় পাপ করতে দ্বিধা করবে না।
দীন নিয়ে উপহাস করা
ধর্মীয় অনুশাসন, আলেম ও মুত্তাকি ব্যক্তিদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা সমাজে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। ইসলামের বিধানগুলোকে সেকেলে ও অপ্রয়োজনীয় মনে করা হবে এবং তা পালনকারীদেরকে উপহাসের পাত্র বানানো হবে। এটি ইমানের দুর্বলতার চরম বহিঃপ্রকাশ।
ধর্মজ্ঞানহীনতার বিস্তার
সত্যিকারের আলেম-ওলামাদের সংখ্যা কমে যাবে এবং ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের প্রতি মানুষের আগ্রহ হ্রাস পাবে। মূর্খ ও অযোগ্য লোকেরা ধর্মীয় নেতা সেজে ভুল ফতোয়া ও ব্যাখ্যা দেবে, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এটি একটি ভয়াবহ ফিতনা।
সামাজিক ব্যাধি ও নৈতিক অবক্ষয়
অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের বৃদ্ধি
ব্যভিচার ও অশ্লীলতা সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করবে। পর্দাপ্রথা শিথিল হবে এবং বেহায়াপনা স্বাভাবিক মনে করা হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, ব্যভিচার এমনভাবে প্রকাশ পাবে যে মানুষ রাস্তার উপরেই তা করতে লজ্জিত হবে না।
সুদ-ঘুষ ও অবৈধ অর্থের প্রসার
অর্থনৈতিক লেনদেনে সুদ (রিবা) ও ঘুষের ব্যাপক ব্যবহার হবে এবং মানুষ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতে দ্বিধা করবে না। হালাল-হারামের পার্থক্য সমাজে গুরুত্বহীন হয়ে উঠবে, যার ফলে বরকত কমে যাবে এবং দুর্ভোগ বাড়বে।
বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যাচার বাড়া
বিশ্বস্ততা উঠে যাবে এবং মিথ্যা বলা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হবে। মানুষ সামান্য কারণেও মিথ্যা শপথ করবে। সমাজে এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে যে, সত্য কথা বলা এবং বিশ্বাসী মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে।
আমানতের খেয়ানত ব্যাপক হওয়া
মানুষের মধ্যে আমানত (গচ্ছিত বস্তু বা দায়িত্ব) রক্ষা করার প্রবণতা কমে যাবে। রাষ্ট্রের সম্পদ, ব্যক্তিগত জিনিস বা অর্পিত দায়িত্ব, সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক খেয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা দেখা দেবে। অযোগ্যদের হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ায় এটি আরও বাড়বে।
হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাত বেড়ে যাওয়া
তুচ্ছ কারণে সমাজে হত্যা ও রক্তপাত বেড়ে যাবে। হত্যাকারীও জানবে না কেন সে হত্যা করছে এবং নিহতও জানবে না কেন তাকে হত্যা করা হচ্ছে। মানুষের জীবন ও রক্তের মূল্য কমে যাবে এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
মানবসম্পর্কের পরিবর্তন
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া
মানুষ নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং তাদের হক আদায় করবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ ও দুনিয়াবী মোহ আত্মীয়তার পবিত্র বন্ধনকে দুর্বল করে দেবে। এটি সমাজের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।
সন্তান পিতামাতার অবাধ্য হওয়া
সন্তানেরা তাদের পিতামাতার প্রতি চরম অবাধ্য হবে এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করবে। সন্তানকে পিতার উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই বিপরীতমুখী আচরণ মানব সম্পর্কের করুণ পরিণতি প্রকাশ করবে।
নেতৃত্ব অযোগ্যদের হাতে যাওয়া
অযোগ্য, মূর্খ এবং অসৎ ব্যক্তিরা সমাজের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করবে। যোগ্য ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা নেতৃত্ব থেকে দূরে সরে যাবে বা তাদেরকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে। ক্ষমতা ও সম্পদ ভোগের প্রতিযোগিতা এই পরিস্থিতি তৈরি করবে।
সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন
যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে অযোগ্যদের নেতৃত্ব
যখন রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে অযোগ্য ও অবিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তখন এটি কিয়ামতের অন্যতম ছোট আলামত। হাদিসে এসেছে, যখন অযোগ্যদের হাতে আমানত তুলে দেওয়া হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।
বিশ্বে অরাজকতা বৃদ্ধি
বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, নৈরাজ্য ও অশান্তি বেড়ে যাবে। শান্তি ও নিরাপত্তা কমে যাবে এবং মানুষ ভয়ে ও আতঙ্কে জীবন কাটাবে। এই অরাজকতা সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের পতন ঘটাবে।
দুর্নীতির বিস্তার
সমাজের সর্বস্তরে, বিশেষ করে শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ লেনদেন স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিণত হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।
সম্পদ ও অর্থনৈতিক অবস্থা
ধন-সম্পদের প্রাচুর্য
মানুষের হাতে প্রচুর ধন-সম্পদ আসবে। অর্থনীতিতে এত বেশি সচ্ছলতা আসবে যে, যাকাত নেওয়ার মতো গরিব মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে এবং যাকাত দেওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে।
ধনের জন্য মানুষ প্রতিযোগিতা করবে
মানুষ আরও বেশি সম্পদ অর্জনের জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। ধনীরা আরও ধনী হওয়ার জন্য এবং দরিদ্ররা ধনী হওয়ার জন্য নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেবে। এটি মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
গরিব মানুষ কমে যাওয়া
যদিও ধন-সম্পদের প্রাচুর্য আসবে, কিন্তু গরিব মানুষ একেবারে কমে যাবে এমন নয়। বরং ধন-সম্পদ এত বেশি হবে যে, মানুষ দান-খয়রাত করেও গরিবদের খুঁজে পাবে না। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
প্রযুক্তি ও আধুনিক অগ্রগতির ইশারা
লিখিত জ্ঞানের ব্যাপক প্রসার
মুদ্রণ ও প্রকাশনার ব্যাপক উন্নতি হবে। কলমের ব্যবহার অর্থাৎ লেখালেখি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে, যা আধুনিক যুগে মুদ্রণ যন্ত্র, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত জ্ঞানের বিস্তারকে ইঙ্গিত করে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার বিস্ময়কর উন্নতি
যোগাযোগের মাধ্যমগুলো দ্রুত ও সহজলভ্য হবে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দূরত্ব কমে যাবে। এটি আজকের যুগের দ্রুতগামী যানবাহন, ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে অর্জিত বৈশ্বিক সংযোগকে নির্দেশ করে।
ভবন নির্মাণে প্রতিযোগিতা (উঁচু অট্টালিকা)
মানুষ উঁচু উঁচু দালান-কোঠা বা অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। পূর্বে যারা গরিব ছিল, সেই রাখালেরা বা সাধারণ মানুষেরা সম্পদশালী হয়ে অহংকারবশত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। এটি আধুনিক নগরায়ণের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূগোলগত পরিবর্তন
ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়া
কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘন ঘন ঘটতে থাকবে এবং এর তীব্রতাও বাড়বে। প্রকৃতির উপর মানুষের অবিচার ও পাপ কাজের ফলস্বরূপ আল্লাহ তা’আলা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দ্বারা মানবজাতিকে সতর্ক করবেন।
খরা-বন্যা-ঝড়ের প্রাবল্য
বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন অনাবৃষ্টিজনিত খরা, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা এবং বিধ্বংসী ঝড়-তুফানের ঘটনা বাড়বে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য সতর্ক করবেন।
রোগবালাই ও মহামারী বৃদ্ধি
নতুন নতুন এবং পূর্ব পরিচিত নয় এমন মারাত্মক রোগবালাই ও মহামারীর আবির্ভাব হবে। এই রোগগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং বহু মানুষের জীবন কেড়ে নেবে, যা মানুষকে অসহায় করে তুলবে।
আল্লাহর বিশেষ নিদর্শন হিসেবে কিছু ঘটনা
আরব ভূমিতে সবুজ বন-উপত্যকার আবির্ভাব
আরব উপদ্বীপ, যা বর্তমানে মরুভূমি, তা একসময় আবারও সবুজ ঘাস ও নদী-নালার ভূমিতে পরিণত হবে। এটি আবহাওয়া ও ভূগোলের এক বিশাল পরিবর্তন, যা কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার বিশেষ একটি নিদর্শন।
সময় দ্রুত চলে যাওয়া
সময়ের বরকত কমে যাবে। মানুষের কাছে মনে হবে দিন, মাস ও বছরগুলো খুব দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে। দ্রুত জীবনযাত্রার কারণে মানুষ ইবাদত ও পরকালের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারবে না।
জ্ঞানী লোক কমে যাওয়া
সমাজের সৎ ও প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ইন্তেকাল করবেন এবং তাদের শূন্যস্থান পূরণ করবে অযোগ্য ও মূর্খ লোকেরা। এর ফলে ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে এবং পথভ্রষ্টতা বেড়ে যাবে।
কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ
কিয়ামতের বড় আলামত বা আল-আলামাতুল কুবরা হলো দশটি প্রধান নিদর্শন যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ঠিক পূর্বে, খুব কাছাকাছি সময়ে এবং দ্রুত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। এই দশটি ঘটনা এতটাই ভয়াবহ, অস্বাভাবিক ও অলৌকিক হবে যে, এগুলো প্রকাশ পাওয়া শুরু হওয়ার পর মানুষের তওবা কবুল হওয়ার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। এই নিদর্শনগুলোর মাধ্যমে মানবজাতির কাছে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা আসবে।
দাজ্জালের আবির্ভাব
দাজ্জাল কে?
দাজ্জাল (আল-মসীহ আদ-দাজ্জাল) হলো এক চোখ বিশিষ্ট এক ভয়াবহ ফিতনা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি। সে পৃথিবীতে এসে নিজেকে খোদা বা ঈশ্বর বলে দাবি করবে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসংখ্য অলৌকিক ক্ষমতা (যা আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলক) প্রদর্শন করবে। সে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা।
তার ফিতনার ধরন
দাজ্জাল মানুষের ইমান পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফিতনা সৃষ্টি করবে। তার এক চোখে আঙ্গুর ফলের মতো পিণ্ড থাকবে এবং কপালে কাফির (ك.ف.ر) লেখা থাকবে। সে বৃষ্টি বর্ষণ করতে, জমিন থেকে ফসল ফলাতে এবং মৃত মানুষকে জীবিত করার মতো (আসলে শয়তান) অলৌকিক ঘটনা দেখাবে, যা দুর্বল ইমানদারদেরকে বিভ্রান্ত করবে।
কোথায় আবির্ভূত হবে
দাজ্জাল পৃথিবীর পূর্বদিক থেকে, সম্ভবত ইস্পাহান বা খোরাসান থেকে আবির্ভূত হবে এবং দ্রুত বিশ্বের প্রায় সব স্থানে প্রবেশ করবে। তবে সে মক্কা ও মদিনা এই দুই পবিত্র শহরে প্রবেশ করতে পারবে না, কারণ ফেরেশতারা এগুলো পাহারা দেবেন।
তার অত্যাচার ও ক্ষমতা
দাজ্জাল পৃথিবীজুড়ে তার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করবে এবং ভয়াবহ অত্যাচার চালাবে। তার রাজত্বকালে মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে। তার ফিতনা এত মারাত্মক হবে যে, নবী (সাঃ) প্রত্যেক নামাজে তা থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন।
হজরত ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ
অবতরণের স্থান
দাজ্জালের ফিতনা যখন চরম আকার ধারণ করবে, তখন আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে হজরত ঈসা (আঃ) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের পূর্ব দিকে অবস্থিত এক সাদা মিনারের কাছে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন।
দাজ্জালকে হত্যা
ঈসা (আঃ)-এর আগমনের প্রধান উদ্দেশ্য হবে দাজ্জালকে ধ্বংস করা। তিনি জেরুজালেমের নিকটবর্তী ‘লুদ্দ’ নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। দাজ্জাল ঈসা (আঃ)-কে দেখলেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গলতে শুরু করবে।
শান্তির যুগ প্রতিষ্ঠা
ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে অবতরণ করার পর চল্লিশ বছর বা তার কাছাকাছি সময় বেঁচে থাকবেন। এই সময়ে তিনি ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন এবং পৃথিবীতে এক অভূতপূর্ব শান্তি ও ন্যায়ের যুগ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইয়াজুজ-মাজুজের আক্রমণ
তাদের পরিচয়
ইয়াজুজ ও মাজুজ (গগ ও ম্যাগগ) হলো মানবজাতির দুটি দুষ্ট জাতি, যাদেরকে একসময় জুলকারনাইন নামক একজন নেককার শাসক দুটি পাহাড়ের মাঝখানে তৈরি করা এক লোহার প্রাচীরের আড়ালে আটকে রেখেছিলেন। তারা সংখ্যায় হবে অগণিত।
আগমন ও ধ্বংসযজ্ঞ
ঈসা (আঃ)-এর সময়ে ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর ভেঙে যাবে এবং তারা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। তারা তাদের বিপুল সংখ্যা এবং নিষ্ঠুরতা দিয়ে পৃথিবীতে চরম বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করবে।
তাদের ধ্বংসের পদ্ধতি
তাদের ধ্বংসের ক্ষমতা মানুষের হাতে থাকবে না। হজরত ঈসা (আঃ) এবং মুমিনগণ তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা বা রোগ সৃষ্টি করবেন, যার ফলে তারা একযোগে মৃত্যুবরণ করবে।
তিনটি বড় ভূমিকম্প
পূর্বদিকে
কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে পৃথিবীজুড়ে তিনটি অত্যন্ত বড় ধরনের ভূমিধ্বস বা ভূমিকম্প সংঘটিত হবে, যার প্রথমটি হবে পৃথিবীর পূর্ব দিকে। এগুলো মানবজাতির জন্য এক বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয় হবে।
পশ্চিমদিকে
দ্বিতীয় ভূমিধ্বসটি পৃথিবীর পশ্চিম দিকে সংঘটিত হবে। এই ভূমিকম্পগুলো স্বাভাবিক দুর্যোগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী হবে।
আরব উপদ্বীপে
তৃতীয় এবং শেষ ভূমিধ্বসটি সংঘটিত হবে আরব উপদ্বীপে। এই তিনটি ভূমিধ্বস বড় আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং কিয়ামতের আগমনকে চূড়ান্তভাবে নিকটবর্তী করার ইঙ্গিত বহন করে।
ধোঁয়া (দুখান)
পৃথিবী ঢেকে যাবে ঘন ধোঁয়ায়
আকাশে ভয়াবহ এক ঘন ধোঁয়া বা কুয়াশার আবির্ভাব হবে, যা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। এই ধোঁয়া মুমিনদের জন্য হবে হালকা সর্দি-কাশির মতো, কিন্তু কাফিরদের জন্য এটি হবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক।
দাজ্জালের সূর্যোদয় পশ্চিম দিক থেকে
তওবা গ্রহণ বন্ধ হওয়া
এটি কিয়ামতের সবচেয়ে প্রধান নিদর্শনগুলোর অন্যতম। একদিন হঠাৎ করে সূর্য তার স্বাভাবিক উদয়স্থল পূর্ব দিক থেকে না উঠে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। এই ঘটনাটি দেখার পর আল্লাহ তা’আলা তওবার দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেবেন এবং এরপর আর কারও ইমান গ্রহণ করা হবে না।
দাব্বাতুল আরদ (পৃথিবীর প্রাণী)
মানুষের সঙ্গে কথা বলা
সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পর ‘দাব্বাতুল আরদ’ নামক একটি অদ্ভুত প্রাণী মাটির ভেতর থেকে আবির্ভূত হবে। এটি মানুষের সাথে সুস্পষ্ট ভাষায় কথা বলবে।
ঈমানীদের চিহ্নিত করা
এই প্রাণীটি তার কাছে আসা প্রত্যেক মানুষের চেহারায় একটি দাগ এঁকে দেবে। মুমিনদের চেহারা উজ্জ্বল করে দেবে এবং কাফিরদের কপালে দাগ দিয়ে তাদের চিহ্নিত করবে।
অগ্নিকাণ্ড / ইয়েমেনের আগুন
মানুষকে সমাবেশস্থলে তাড়িয়ে নিয়ে আসা
কিয়ামতের একেবারে শেষ প্রান্তে, ইয়েমেনের আদন নামক স্থান থেকে এক ভয়াবহ আগুন নির্গত হবে। এই আগুন মানুষকে তাদের চূড়ান্ত সমাবেশস্থল (হাশরের ময়দান, যা বর্তমানে সিরিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে) অভিমুখে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। এই আগুন মুমিনদের সঙ্গে নরমভাবে আচরণ করবে, কিন্তু কাফিরদের জন্য এটি হবে শাস্তি।
শেষ সময়ে কী কী ঘটবে
বড় আলামতগুলো শেষ হওয়ার পর, শুধুমাত্র সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষগুলো (কাফির ও ফাসিক) পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে। তখন আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে ইসরাফিল (আঃ) শিঙ্গায় প্রথম ফুঁক দেবেন। এই ফুঁকের বিকট শব্দে পৃথিবী, পাহাড়-পর্বত এবং আকাশের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে এবং সব কিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। এটিই পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংসের মুহূর্ত।
শিঙ্গা ফুঁক দেওয়া
শিঙ্গায় দুটি ফুঁক দেওয়া হবে। প্রথম ফুঁকটিকে বলা হয় ‘ফুঁকে ধ্বংস’ (নাফখাতুল ফানা)। এই ফুঁকের ফলে আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আকাশের ও পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী এবং যারাই জীবিত থাকবে, সকলেই মারা যাবে। পৃথিবীর সকল কিছু স্থির ও নিস্তব্ধ হয়ে যাবে।
সব প্রাণীর মৃত্যু
প্রথম ফুঁকের পর আল্লাহ তা’আলা ছাড়া সকল সৃষ্টিরই মৃত্যু ঘটবে। সকল ফেরেশতা, জিন ও মানুষ মারা যাবে। এটি হবে মহাপরকালের পথে প্রথম পদক্ষেপ, যখন আল্লাহর অসীম শক্তি ও ক্ষমতার প্রকাশ ঘটবে এবং তিনিই একমাত্র চিরঞ্জীব (আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম) হিসেবে বিরাজমান থাকবেন।
পুনরুত্থান (হাশর)
দ্বিতীয় ফুঁকটিকে বলা হয় ‘ফুঁকে পুনরুত্থান’ (নাফখাতুল বা’স)। এই ফুঁকের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে পূর্বাপর সকল মৃত মানুষ কবর থেকে জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে। তারা এক বিশাল ময়দানে সমবেত হবে, যাকে হাশরের ময়দান বলা হয়। এখান থেকেই কিয়ামতের দিনের চূড়ান্ত বিচার পর্ব শুরু হবে।
কিয়ামতের আলামত থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা
ইমান দৃঢ় করার প্রয়োজন
কিয়ামতের আলামতগুলো প্রমাণ করে যে, মানব সমাজ শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ফিতনা বাড়ছে। এই জ্ঞান আমাদের ইমানের ভিত্তি মজবুত করার গুরুত্ব শেখায়। দাজ্জালের মতো বড় ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য এবং ছোট ছোট ফিতনায় বিচলিত না হওয়ার জন্য মজবুত ইমানের কোনো বিকল্প নেই।
পাপ থেকে বাঁচার গুরুত্ব
ছোট আলামতগুলোর অধিকাংশই সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং পাপের বিস্তারকে চিহ্নিত করে। এই শিক্ষা আমাদেরকে সমাজের দুর্নীতি, অশ্লীলতা, সুদ, ঘুষ ও মিথ্যাচার থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করে। আমরা যেন পার্থিব মোহের ঊর্ধ্বে উঠে আখিরাতের জন্য জীবন উৎসর্গ করি।
সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান
ছোট আলামতগুলোর মধ্যে অযোগ্যদের নেতৃত্ব এবং দুর্নীতির বিস্তার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই আলামতগুলো আমাদেরকে সমাজের সকল স্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার) এর জন্য কাজ করার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
দোয়া, ইবাদত ও তওবার গুরুত্ব
কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং বড় আলামতগুলোর উপস্থিতি আমাদেরকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার, নিয়মিত ইবাদত ও দ্রুত তওবা করার গুরুত্ব শেখায়। বিশেষ করে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য নিয়মিত দোয়া করা এবং যেকোনো সময় তওবার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।
এই কিয়ামতের ছোট ও বড় আলামতসমূহ হলো মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। এই নিদর্শনগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং একটি মহাদিবস অনিবার্যভাবে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ইমানের দুর্বলতা, সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে ছোট আলামতগুলো আমাদের সতর্ক করছে, আর দাজ্জাল, ঈসা (আঃ)-এর আগমন এবং সূর্যের পশ্চিম দিকে উদয়ের মতো বড় আলামতগুলো জানান দিচ্ছে চূড়ান্ত সময়ের আগমন। এই জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্য হলো ভয় পাওয়া নয়, বরং ইবাদত, তওবা ও সৎকর্মের মাধ্যমে পরকালের জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।
কিয়ামতের আলামতসমূহ: সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন: কিয়ামত কী?
উত্তর: ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, কিয়ামত হলো পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংস এবং সকল মানুষের পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশের জন্য মহাদিবস। এটি পরকালীন জীবনের সূচনা।
প্রশ্ন: ইসলামে কিয়ামতের বিশ্বাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: কিয়ামতে বিশ্বাস ইসলামের ছয়টি মৌলিক আকিদার অন্যতম। এটি মানুষকে অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থেকে আখিরাতের জন্য সৎ জীবন যাপনে উৎসাহিত করে।
প্রশ্ন: কিয়ামতের ছোট আলামত কী?
উত্তর: ছোট আলামত হলো সেই নিদর্শনগুলো যা কিয়ামতের অনেক আগে থেকেই ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে এবং এর কিছু অংশ ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়েছে, যেমন: নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা।
প্রশ্ন: কিয়ামতের বড় আলামত কী?
উত্তর: বড় আলামত হলো দশটি সুনির্দিষ্ট ও অসাধারণ ঘটনা, যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ঠিক নিকটবর্তী সময়ে দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পাবে।
প্রশ্ন: ছোট ও বড় আলামতের প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: ছোট আলামত ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয় এবং এটি সমাজের পরিবর্তন নির্দেশ করে, আর বড় আলামত দ্রুত ও অলৌকিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং এরপর তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
প্রশ্ন: দীন নিয়ে উপহাস করা কি কিয়ামতের আলামত?
উত্তর: হ্যাঁ, ধর্মীয় অনুশাসন, আলেম ও মুত্তাকি ব্যক্তিদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা কিয়ামতের একটি ছোট আলামত, যা ইমানের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
প্রশ্ন: কিয়ামতের আগে কি অশ্লীলতা বাড়বে?
উত্তর: হ্যাঁ, অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের ব্যাপক বৃদ্ধি কিয়ামতের ছোট আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় নির্দেশ করে।
প্রশ্ন: কিয়ামতের আগে ধন-সম্পদ কি বেড়ে যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, ধন-সম্পদের প্রাচুর্য বৃদ্ধি পাবে এবং যাকাত নেওয়ার মতো গরিব মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে এটি একটি ছোট আলামত।
প্রশ্ন: উঁচু অট্টালিকা তৈরি করা কি কিয়ামতের আলামত?
উত্তর: হ্যাঁ, উঁচু উঁচু দালান-কোঠা বা অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করা কিয়ামতের একটি ছোট আলামত।
প্রশ্ন: কিয়ামতের আগে কি ভূমিকম্প বাড়বে?
উত্তর: হ্যাঁ, ভূমিকম্প এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘন ঘন ও তীব্রভাবে ঘটতে থাকবে, যা ছোট আলামত হিসেবে বর্ণিত।
প্রশ্ন: দাজ্জাল কে?
উত্তর: দাজ্জাল (আল-মসীহ আদ-দাজ্জাল) হলো এক চোখ বিশিষ্ট এক ভয়াবহ ফিতনা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি, যে পৃথিবীতে এসে নিজেকে খোদা দাবি করবে।
প্রশ্ন: দাজ্জালের কপালে কী লেখা থাকবে?
উত্তর: দাজ্জালের কপালে আরবিতে ‘কাফির’ (ك.ف.ر) লেখা থাকবে, যা প্রতিটি মুমিন ব্যক্তিই পড়তে পারবে।
প্রশ্ন: দাজ্জালকে কে হত্যা করবেন?
উত্তর: দাজ্জালের ফিতনা চরম আকার ধারণ করলে হজরত ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে অবতরণ করে লুদ্দ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।
প্রশ্ন: ঈসা (আঃ) কোথায় অবতরণ করবেন?
উত্তর: হজরত ঈসা (আঃ) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের পূর্ব দিকে অবস্থিত এক সাদা মিনারের কাছে অবতরণ করবেন।
প্রশ্ন: ইয়াজুজ-মাজুজ কারা?
উত্তর: ইয়াজুজ ও মাজুজ হলো মানবজাতির দুটি দুষ্ট জাতি, যাদেরকে একসময় জুলকারনাইনের তৈরি করা প্রাচীরের আড়ালে আটকে রাখা হয়েছিল।
প্রশ্ন: সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হলে কী হবে?
উত্তর: সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া কিয়ামতের সর্বপ্রধান আলামত এবং এই ঘটনার পর তওবার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: দাব্বাতুল আরদ কী করবে?
উত্তর: ‘দাব্বাতুল আরদ’ নামক প্রাণীটি মাটির ভেতর থেকে আবির্ভূত হয়ে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং ঈমানদার ও কাফিরদের চিহ্নিত করবে।
প্রশ্ন: হাশরের ময়দান কোথায়?
উত্তর: কিয়ামতের শেষ প্রান্তে ইয়েমেনের আগুন মানুষকে হাশরের ময়দানে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, যা সিরিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে।
প্রশ্ন: শিঙ্গায় কয়বার ফুঁক দেওয়া হবে?
উত্তর: শিঙ্গায় দুবার ফুঁক দেওয়া হবে প্রথমটি ধ্বংসের জন্য (ফানা) এবং দ্বিতীয়টি পুনরুত্থানের জন্য (বা’স)।
প্রশ্ন: কিয়ামতের আলামত জানার মূল শিক্ষা কী?
উত্তর: মূল শিক্ষা হলো ইমান দৃঢ় করা, পাপ থেকে বাঁচা এবং ইবাদত ও তওবার মাধ্যমে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।








