জেজু, দক্ষিণ কোরিয়া– সুন্দর দ্বীপ জেজু, যা প্রায়ই “দক্ষিণ কোরিয়ার হাওয়াই” নামে পরিচিত, নতুন বিদেশি পর্যটক নির্দেশিকা চালু করেছে। নির্দেশিকায় পর্যটকদের আচরণ এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব বলা হয়েছে। এটি বিশেষত কিছু ভাইরাল ভিডিও ও অসদাচরণের কারণে প্রয়োজনীয় হয়েছে।
নতুন নিয়ম ও জরিমানা

জেজু কর্তৃপক্ষ ৮,০০০ কপি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশিকায় কোরিয়ান, ইংরেজি ও চীনা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ধূমপান নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপান, রাস্তা পারাপারের নিয়ম না মানা, আবর্জনা ফেলা বা পরিবেশ নষ্ট করলে ৫০,০০০ কেওয়ান ($35.77) জরিমানা হবে। এছাড়া কর্মকর্তারা বলছেন, “এই ধরনের অপরাধে মৃদু শাস্তি বা জরিমানা প্রযোজ্য হবে।”
পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি
কোভিড পরবর্তী সময়ে জেজুতে পর্যটক সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে বিদেশি পর্যটক সংখ্যা ১.৯ মিলিয়নের বেশি হয়েছে। ফলে স্থানীয়রা অসুবিধা এবং ক্ষোভ অনুভব করছে।
উদাহরণস্বরূপ, এপ্রিল ২০২৪-এ একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায় একজন বিদেশি বাসে ধূমপান করছে। অনলাইন ব্যবহারকারীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এছাড়া, গত গ্রীষ্মে একটি ছবি ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায় একজন বিদেশি শিশু রাস্তার উপর মলত্যাগ করেছে।
আন্তর্জাতিক তুলনা
জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও ইউরোপেও পর্যটকদের অসদাচরণের সমস্যা দেখা দেয়। কিওটো এবং ব্যালি পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করেছে। তদুপরি, স্পেন, ইতালি ও গ্রিসে স্থানীয়রা অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিবাদ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্থানীয়দের সম্মান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Ruben Santopietro, Visit Italy-এর CEO বলেছেন, “যেখানে স্থানীয়রা সন্তুষ্ট নয়, সেখানে পর্যটন সঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে শহর তার পরিচয় হারায় এবং অঞ্চল পর্যটনে সমস্যা তৈরি করে।”
জেজুর উদ্দেশ্য
জেজু বিদেশি পর্যটক নির্দেশিকা মূলত পর্যটকদের সচেতন করতে এসেছে। এছাড়া এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও নিয়ম মেনে চলার জন্য উৎসাহ দেয়। দ্বীপটি তার স্বতন্ত্র সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।
সোর্স: সিএনএন ট্রাভেলস








