কাশ্মীর প্রায় সাত দশক ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন এবং পাকিস্তানের সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এই পরমাণু-সশস্ত্র প্রতিবেশীরা দুটি যুদ্ধ করেছে। কাশ্মীরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটি উভয় দেশই সম্পূর্ণ দখল করতে চায়, তবে বর্তমানে কেবল আংশিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আজ কাশ্মীর বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকৃত অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। কাশ্মীরের কিছু অংশও চীনের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছে।
কাশ্মীরের জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক বিভাজন
ইতিহাসিক কাশ্মীরের জনসংখ্যা প্রায় ১৬.৩ মিলিয়ন। এর মধ্যে:
- ভারত-প্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীর: প্রায় ১০ মিলিয়ন
- পাকিস্তান-প্রশাসিত কাশ্মীর: প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন
- গিলগিট-বালতিস্তান: প্রায় ১.৮ মিলিয়ন, যা পাকিস্তান ১৯৭০ সালে নর্দার্ন কাশ্মীর এবং ছোট হুনজা ও নগার রাজ্যগুলো থেকে তৈরি করে।

স্বাধীনতা ও প্রথম সংঘাত: কাশ্মীর ইতিহাসের মূল ঘটনা
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের সময়, বিভিন্ন প্রিন্সলি রাজাদের নিজেদের রাজ্য যে দেশে যুক্ত হবে তা বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল।
কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংহ, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যার মধ্যবর্তী হিন্দু শাসক ছিলেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না কাশ্মীরকে কার সাথে যুক্ত করবেন। পাকিস্তানের সাথে সাময়িক “স্ট্যান্ডস্টিল” চুক্তি করে তিনি পরিবহন ও অন্যান্য পরিষেবা বজায় রাখার ব্যবস্থা করেন।
তবে অক্টোবর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের উপজাতি যোদ্ধারা কাশ্মীরে আক্রমণ করে। মহারাজা হরি সিংহ ভারতীয় সেনা সাহায্য চেয়ে নেন।
ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন মনে করতেন, কাশ্মীর সাময়িকভাবে ভারতের সাথে যুক্ত থাকাই শান্তির জন্য উপযুক্ত। সেই মাসে হরি সিংহ “ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাক্সেশন” স্বাক্ষর করেন, যা বিদেশ ও প্রতিরক্ষা নীতি ভারতের হাতে হস্তান্তর করে।
সীমান্ত ও যুদ্ধের কাশ্মীর ইতিহাস
ভারতীয় সেনারা কাশ্মীরের দুই-তৃতীয়াংশ অংশ দখল করে, এবং পাকিস্তান উত্তর অংশ দখল করে। ১৯৫০-এর দশকে চীন রাজ্যের পূর্ব অংশ দখল করে।
ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাক্সেশন ও সেনা প্রবেশের ক্রম নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। ভারত দাবি করে হরি সিংহ প্রথম স্বাক্ষর করেছেন, যা তাদের সেনার উপস্থিতি বৈধতা দেয়। পাকিস্তান দাবি করে সেনা প্রবেশের আগে মহারাজা স্বাক্ষর করতে পারেননি।
পাকিস্তান কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ স্থিতি নির্ধারণের জন্য গণভোটের দাবি রাখে। ভারত দাবি করে, ধারাবাহিক নির্বাচনে কাশ্মীরিরা ভারতের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ দিয়েছেন।
কাশ্মীরের সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা
- ১৯৪৭-৪৮: প্রথম ভারত-পাক যুদ্ধ
- ১৯৬৫: দ্বিতীয় ভারত-পাক যুদ্ধ
- ১৯৯৯: সিয়াচেন গ্লেসিয়ারে সংঘর্ষ
- ২০০২: ভারত-পাক যুদ্ধের শঙ্কা
বিদ্রোহ ও সশস্ত্র আইন: কাশ্মীর ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়
কাশ্মীরিদের অধিকাংশই শুরু থেকেই পাকিস্তানে যোগ দিতে চেয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিদ্রোহ শুরু হয়। ভারতের সেনাবাহিনী “আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট (AFSPA)” এর অধীনে বিদ্রোহ দমন করে। বর্তমানে AFSPA ভারত-প্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে কার্যকর। তবে, ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত, ভারতীয় সেনাবাহিনী সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
মিডিয়ার ভূমিকা
ভারত-প্রশাসিত কাশ্মীরে মিডিয়া প্রায়শই সেকশন অনুযায়ী বিভক্ত:
- কেন্দ্রপন্থী ও স্বতন্ত্রতাবিরোধী মিডিয়া
- স্থানীয় সাংবাদিকরা কারফিউ ও সন্ত্রাসী হুমকির মধ্যে কাজ করছেন
- ইন্টারনেট ও টেক্সট মেসেজিং মাঝে মাঝে বন্ধ
পাকিস্তান-প্রশাসিত কাশ্মীরে মিডিয়া মূলত ভারত-প্রশাসিত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: কাশ্মীর ইতিহাসের হাইলাইটস
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৮৪৬ | কাশ্মীর প্রিন্সলি স্টেট সৃষ্টি |
| ১৯৪৭-৪৮ | পাকিস্তান আক্রমণ, ভারত-কাশ্মীর যুদ্ধ |
| ১৯৪৯ | কাশ্মীর বিভাজন, যুদ্ধবিরতি লাইন স্থাপন |
| ১৯৬২ | ভারত-চীন সীমান্ত যুদ্ধ (আক্সাই চীন) |
| ১৯৬৫ | দ্বিতীয় ভারত-পাক যুদ্ধ |
| ১৯৭২ | সিমলা চুক্তি, লাইন অফ কন্ট্রোল চূড়ান্ত |
| ১৯৯৯ | কার্গিল যুদ্ধ |
| ২০০৮ | লাইন অফ কন্ট্রোলে ব্যবসায়িক পথ খোলা |
| ২০১৯ | জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন বাতিল |








