বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও আগে জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের মুখে দাঁড় করাতে হবে।”
তিনি মনে করেন, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের আগে বিচারের আওতায় আনা না গেলে স্বাধীনতার চেতনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
বেগমগঞ্জে শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে আজ রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বুলু এ মন্তব্য করেন।
জুলাই আন্দোলন ও নিষেধাজ্ঞার যুক্তি
বুলু বলেন, জুলাই ও আগস্টের গণআন্দোলনে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হবে,” তিনি জানান।
তবে তার মতে, তার আগে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, শহীদের রক্তে কলঙ্ক লেপেছে, তারা কীভাবে এখনো রাজনীতি করার সুযোগ পায়?
বুলুর দাবি, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানো হচ্ছে। তাই স্বাধীনতার শত্রুদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানো সময়ের দাবি।
১৯৭১-এর মহান বেইমানির অভিযোগ
বুলু বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সরাসরি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল।”
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিরস্ত্র মানুষের হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয় এবং নারী নির্যাতনে উৎসাহ দেয়।
তিনি বলেন, “এই দলই ১৯৭১ সালে দেশের মা-বোনদের গণিমতের মাল ঘোষণা করেছিল। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তারা।”
বিএনপির এই নেতা মনে করেন, জাতি হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই এই বিশ্বাসঘাতকতাকে ক্ষমা করতে পারে না।
তাই নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরা এবং জামায়াতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এখন অপরিহার্য।
বিএনপির আত্মত্যাগ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তিনি অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের দমননীতিতে বিএনপির হাজারো কর্মী শহীদ হয়েছেন, নিখোঁজ হয়েছেন, কারাবন্দি রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “একাত্তরকে অস্বীকারকারীদের ভোটাধিকার নেই। তারা এই দেশের নাগরিক হতে পারে না যারা স্বাধীনতার শত্রুদের পাশে দাঁড়ায়।”
বুলুর দাবি, কিছু মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “ভূরাজনীতির নামে দেশে নতুন ষড়যন্ত্র চলছে। বড় বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টাও হচ্ছে।”
বুলুর বার্তা: দেশের স্বার্থে ঐক্য দরকার
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।
তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করতে হলে জামায়াতসহ যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলোর বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে।
বুলু বলেন, “আমরা চাই না কোনো সরকারকে হঠানো হোক, আমরা চাই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক। তবে গণতন্ত্রের নামে যারা স্বাধীনতার শত্রুদের প্রশ্রয় দেয়, তাদের প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।”








