ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনের অন্দরমহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা।
ট্রাম্পের ক্ষোভ ও চিৎকার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ট্রাম্প তার সহযোগীদের ওপর কয়েক ঘণ্টা ধরে চিৎকার করেন। সামরিক শক্তির এই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিতে তিনি চরম হতাশ ও ক্রোধান্বিত ছিলেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে ইরানের আকস্মিক নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প নিজেও বিস্মিত বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে উঠে এসেছে তার বিস্ময় ‘শুধুমাত্র ড্রোন ব্যবহার করে কীভাবে কেউ এত দ্রুত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে?’
সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পকে কেন রাখা হয়নি
যুদ্ধবিমানের পাইলট ও ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল ইউনিট যখন ব্যাপক অভিযান শুরু করে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের অস্থিরতা ও অধৈর্য স্বভাব উদ্ধার অভিযানের অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এই আশঙ্কায় সামরিক কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বিশ্ব অর্থনীতি ও যুদ্ধবিরতির চাপ
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল বলছে, এই পরিস্থিতির জেরে ট্রাম্প এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও ইরান এত দ্রুত ও কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ক্ষমতা অর্জন করায় রীতিমতো অবাক।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ট্রাম্পের আগের কঠোর হুঁশিয়ারি এখন উল্টো প্রশ্নের মুখে। একদিকে যুদ্ধবিমান হারানোর লজ্জা, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান কৌশল কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।








