বাংলাদেশের বাজারে এক দিনের ব্যবধানে সোনার দাম আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
নতুন হারে, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকা, যা ৪,১৮৮ টাকা বৃদ্ধি। এই নতুন দাম আজ (১৪ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
সোনার নতুন দাম (ভরি ভিত্তিতে)
| ক্যারেট | নতুন দাম (টাকা) |
| ২২ ক্যারেট | ২,০৮,৪৭১ |
| ২১ ক্যারেট | ১,৯৯,০০০ |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭০,৫৬৩ |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪১,৮৫৮ |
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫% সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬% ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
রুপার দাম অপরিবর্তিত
নতুন সমন্বয়ের পরও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে:
| ক্যারেট | রুপার দাম (ভরি) |
| ২২ ক্যারেট | ৪,২৪৬ |
| ২১ ক্যারেট | ৪,০৪৭ |
| ১৮ ক্যারেট | ৩,৪৭৬ |
| সনাতন পদ্ধতি | ২,৬০১ |
সোনার মতো রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ক্রেতাদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগ ও জুয়েলারি কেনায় স্থিতিশীলতা রয়ে গেছে।
কেন বেড়েছে সোনার দাম?
সোনার দামের বৃদ্ধি সাধারণত কয়েকটি কারণে ঘটে:
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
- দেশীয় বাজারে সোনার সরবরাহের ঘাটতি
- বিনিয়োগ ও নিরাপদ সম্পদের জন্য স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি
- স্থানীয় তেজাবি সোনার দাম পরিবর্তন
বাজুসের মতে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ভরি ভিত্তিক নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- সোনার দাম আজ থেকে কার্যকর হওয়ায়, ক্রয়-বিক্রয় পরিকল্পনা আগে করা জরুরি।
- ভ্যাট ও মজুরি খরচ মাথায় রাখুন।
- গহনা কেনার সময় ডিজাইন ও ক্যারেট যাচাই নিশ্চিত করুন।
সোনার বাজারে বিনিয়োগের পরামর্শ
সোনা একটি নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম, বিশেষ করে বর্তমান বাজার অস্থিরতার সময়।
কিন্তু বিনিয়োগের আগে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখুন:
- মার্কেট রিসার্চ করুন – আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারের দামের তুলনা।
- নিরাপদ ক্রয় – বাজুস বা অনুমোদিত জুয়েলারি দোকান থেকে ক্রয়।
- বিনিয়োগের লক্ষ্য – দৈনন্দিন ব্যবহার না কি দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ।
- মূল্য ওঠানামা – সোনার বাজার সময়ের সঙ্গে ওঠানামা করে, তাই বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী করুন।
বাংলাদেশে সোনার দাম নিরাপদ ও স্থিতিশীল বিনিয়োগের প্রতীক, যা বিশেষ করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীদের আস্থা দেয়।
২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সোনার বাজার আরও স্বচ্ছ ও আপডেটেড অবস্থায় এসেছে।








