পবিত্র ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের মহিমা আর প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এবার এই আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছে। কারণ, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছুটির সময়সূচী ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত
প্রতি বছর ঈদের ছুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করে। বিশেষ করে যারা দূর-দূরান্তে চাকরি করেন, তাদের জন্য বাড়ি ফেরাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়। এই সমস্যার সমাধানে এবং সাধারণ মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার এবার আগেভাগেই ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিন সারা দেশে সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। তবে এখানে একটি ছোট টুইস্ট রয়েছে। মে মাসের ২৩ ও ২৪ তারিখ (শনিবার ও রবিবার) অফিস খোলা থাকবে। যারা এই দুই দিন অফিস করবেন, তারা ২৫ তারিখ থেকে টানা সাত দিনের জন্য ঈদের ছুটিতে যেতে পারবেন।
কেন এই দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত?
সাধারণত ঈদে তিন দিনের ছুটি থাকে। কিন্তু যাতায়াতের ভোগান্তি এবং মানুষের ঈদ আনন্দকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ। এই ৭ দিনের ছুটির ফলে:
১. মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটা কমবে।
২. মানুষ ধাপে ধাপে বাড়ি ফেরার সুযোগ পাবে।
৩. পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে দীর্ঘ সময় কাটানো যাবে।
২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার নিয়ম
অনেকেই মনে করতে পারেন ছুটি হয়তো ২৩ তারিখ থেকেই শুরু। কিন্তু মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ ও ২৪ মে সকল সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এই দুই দিন কাজ শেষ করার পরেই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত ঈদ অবসর। তাই আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনাটি ২৫ মে বা এর পর থেকে করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ঈদ যাত্রায় স্বস্তির খবর
টানা ৭ দিন ছুটি পাওয়ায় এবার বাস, ট্রেন এবং লঞ্চে যাত্রীদের ভিড় একযোগে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও এবার উপচে পড়া ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার, সিলেট বা কুয়াকাটার মতো পর্যটন এলাকাগুলো এখন থেকেই পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ঈদ প্রস্তুতির কিছু টিপস
যেহেতু ছুটি লম্বা, তাই আপনার প্রস্তুতিও হওয়া চাই গোছানো।
- টিকিট বুকিং: দীর্ঘ ছুটির কারণে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি হতে পারে। তাই এখনই বাস বা ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করুন।
- কেনাকাটা: শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগেভাগেই কোরবানির পশু এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিন।
- নিরাপত্তা: বাড়ি যাওয়ার আগে আপনার বাসা বা ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাস অফ করতে ভুলবেন না।
ঈদুল আজহার এই ৭ দিনের ছুটি আমাদের যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা মুক্তির স্বাদ দেবে। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আপনি যদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন বা বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর কথা ভাবেন, তবে এখনই পরিকল্পনা শুরু করে দিন। সবার ঈদ কাটুক আনন্দময় ও নিরাপদ।








