কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সরাসরি সমস্যার কথা শুনতে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এক আবেগপ্রবণ ও সতর্কতামূলক বক্তব্য দেন।
কারো বাঁচার উপায় নেই
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল। কারো বাঁচার উপায় নেই।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট সমাধান করতে না পারলে ছাত্র ও সরকার উভয়ের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। প্রথাগত দীর্ঘ বক্তৃতার পরিবর্তে এদিন তিনি শিক্ষার্থীদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
ল্যাব ও মেশিনারিজের চরম সংকট
অনুষ্ঠানে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর কাছে একরাশ ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ:
- নিয়মিত ক্লাস হয় না।
- হাতে-কলমে শেখার মতো আধুনিক মেশিনারিজ নেই।
- ল্যাবের সব যন্ত্রপাতি অনেক পুরোনো এবং ব্যবহারের অনুপযোগী।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও জানানো হয় যে, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে বর্তমানে ক্লাস ও ল্যাবের কাজ চালাতে হচ্ছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে শেখানোর কোনো সুযোগই নেই সেখানে।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও মন্ত্রীর পরিকল্পনা
শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষায় যত টাকা লাগে, তা দেবেন। তবে সেই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হবে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প হাতে নিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনছি যেন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প সাজাতে পারি।”
শিক্ষার্থী ঝরে পড়া ও শিক্ষকদের বেতন সমস্যা
অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মাঝপথে ঝরে যাচ্ছে, যা কারিগরি শিক্ষার জন্য একটি বড় হুমকি। এই ঝরে পড়া ঠেকাতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এছাড়া ১৯ জন শিক্ষক দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন। শিক্ষামন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে আত্তীকরণ করার আশ্বাস দিয়ে আশ্বস্ত করেন।
কারিগরি শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে কেবল অবকাঠামো নয়, ল্যাব ও আধুনিক যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন জরুরি। শিক্ষামন্ত্রীর এই সফর এবং শিক্ষার্থীদের কথা সরাসরি শোনার উদ্যোগ পলিটেকনিক শিক্ষায় নতুন কোনো আশার আলো দেখাবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।








