বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড সেবাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে সিটি ব্যাংক। বিশেষ করে ‘আমেরিকান এক্সপ্রেস’ বা অ্যামেক্স কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনযাত্রায় এসেছে বড় পরিবর্তন। সম্প্রতি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন কীভাবে তারা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রিমিয়াম ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছেন।
বর্তমানে সিটি ব্যাংকের প্রায় ১০ লাখ অ্যামেক্স কার্ড গ্রাহক রয়েছে। এই সেবাকে আরও আধুনিক করতে তরুণ ও ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আনা হয়েছে ‘অ্যামেক্স আলট্রামেরিন’ ক্রেডিট কার্ড।
গুগল পে এবং ডিজিটাল বিপ্লব
সিটি ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য সুখবর হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ডের পর এখন অ্যামেক্স গ্রাহকদের জন্যও দ্রুতই চালু হতে যাচ্ছে ‘গোগল পে’ (Google Pay) সেবা। এর ফলে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই নিরাপদ ও স্পর্শহীন লেনদেন করা সম্ভব হবে। এছাড়া ‘সিটিটাচ’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহক এখন কল সেন্টারে ফোন না দিয়েই নিজের আন্তর্জাতিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ, কার্ড ব্লক বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট রিডিম করতে পারছেন।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধা ও এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ
সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ হলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিজস্ব লাউঞ্জ সুবিধা। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ‘প্রায়োরিটি পাস’ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণে গ্রাহকরা বিশেষ মর্যাদা পান। গোল্ড ও প্লাটিনাম কার্ডধারীদের জন্য রয়েছে ফ্রি বুফে অফার এবং ০% সুদে দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি সুবিধা।
ক্রেডিট লিমিট বৃদ্ধি ও নতুন নীতিমালা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, জামানতবিহীন ক্রেডিট লিমিট ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। মাসরুর আরেফিন বলেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে একজন গ্রাহক এখন এক কার্ডেই ১২ হাজার ডলারের ট্রাভেল কোটা ব্যবহার করতে পারছেন, যা বৈশ্বিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।”
কেনাকাটায় ছাড় ও আর্থিক সুরক্ষা
শুধু ডিসকাউন্ট নয়, সিটি ব্যাংকের কার্ডগুলোতে রয়েছে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি অনলাইন লেনদেনে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন, উন্নত এনক্রিপশন ও ফ্রড মনিটরিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবার সিটিম্যাক্স ডেবিট কার্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় মিলছে ১% ক্যাশব্যাক সুবিধা।
ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
সিটি ব্যাংক কেবল কার্ড ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিকাশেও কাজ করছে। ব্যাংকটি ব্যবসায়ীদের বিনা মূল্যে পস (POS) মেশিন ও কিউআর কোড সরবরাহ করে। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের বিক্রির ওপর ভিত্তি করে ‘পসভিত্তিক ঋণ’ দেওয়ার একটি মডেল নিয়ে কাজ করছে ব্যাংকটি, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মূলধন সংকট দূর করবে।
দেশের ক্রেডিট কার্ড বাজারের প্রায় ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সিটি ব্যাংক। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, নিজস্ব এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ এবং দক্ষ সেলস টিমের কারণে প্রতিযোগিতায় নিজেদের ভিন্নতা বজায় রেখেছে তারা। মাসরুর আরেফিনের মতে, গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবার প্রত্যাশা আগামীতে ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।








