প্রায় ৪০ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ (মাশুল) বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার রাতে নতুন ট্যারিফ প্রজ্ঞাপন জারি হয়, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি এবং প্রভাব
বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, নতুন ট্যারিফ গড়ে ৪১ শতাংশ বেড়েছে। বন্দরে মোট ৫২টি খাতে ট্যারিফ আদায় করা হয়। এর মধ্যে ২৩টি খাতে সরাসরি বর্ধিত হারে আদায় হবে।
গত ২৪ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত ট্যারিফ অনুমোদন করেছিল। তবে বন্দর ব্যবহারকারীরা কিছু আপত্তি জানিয়েছিলেন। তারপরও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আলোচনার পরও সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
কনটেইনার খাতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি
কনটেইনার পরিবহন খাতে ট্যারিফ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০ ফুট লম্বা প্রতিটি কনটেইনারে পূর্বের ১১,৮৪৯ টাকা থেকে নতুন ট্যারিফ দাঁড়িয়েছে ১৬,২৪৩ টাকা। এটি প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্য, আমদানি কনটেইনারের ট্যারিফ ৫,৭২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানি কনটেইনারের জন্য এটি ৩,০৪৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজি পণ্যের জন্যও ট্যারিফ ১.২৮ টাকা থেকে ১.৭৫ টাকা করা হয়েছে।

প্রভাবিত খাত ও ব্যবহারকারী
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন করে। তাই ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাণিজ্যে সরাসরি পড়বে।
ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন নতুন খরচ অনুযায়ী বাজেট সামঞ্জস্য করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং পরিষেবার মান উন্নয়নের জন্য এটি জরুরি পদক্ষেপ।
দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য সুবিধা
নতুন ট্যারিফের ফলে বন্দরের আয় বাড়বে। এতে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিকাঠামো এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর হিসেবে চট্টগ্রামের পদক্ষেপ দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।








