২৪-এর জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ছাত্র-জনতার রক্ত, অগণিত মানুষের ত্যাগ এবং রাজপথের তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছিল এক নতুন বাংলাদেশ। সেই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদেরই একজন আশরাফ জালাল খান মনন (Ashraf Jalal Khan Monon)।
সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এবং বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি অত্যন্ত আবেগী, সত্য ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
“ঢাকার রাজপথ আমাদের ভুলে নাই, আমরাও ভুলি নাই”
আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল ঢাকার একেকটি রাজপথ যেখানে প্রতিদিন তরুণদের রক্ত ঝরেছে, যেখানে প্রতিটি মিছিলে কেঁপে উঠেছিল স্বৈরাচারের ভিত। সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে আশরাফ জালাল খান মনন বলেন, “ঢাকার রাজপথ আমাদের ভুলে নাই। আমরাও ভুলি নাই।”
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ক্ষমতার চেয়ার বা পদের পালাবদল হলেও রাজপথের প্রতিটি ধূলিকণা সাক্ষী আছে কারা সেই কঠিন সময়ে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াইটা চালিয়ে গিয়েছিলেন। রাজপথের সেই উত্তাপ আর স্মৃতি আন্দোলনকারীদের হৃদয়ে আজীবন তাজা থাকবে।
“আমাদের শ্রম-ঘামের মূল্যায়নটা দিতে চান না কেউ?”
জুলাই আন্দোলনের সফলতার পর বর্তমান সময়ে এসে এক শ্রেণির মানুষের মাঝে পদের লোভ এবং সস্তা জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা দেখে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মনন। তাঁর ভাষায়, “সবাই প্রতিদিন নিউস করান উমুক হইতে চান, তমুক হইতে চান। আমাদের শ্রমঘামের মূল্যায়নটা দিতে চান না কেউ?”
তাঁর এই একটি কথা বর্তমান সমাজের একটি বড় সত্যকে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে:
- সুবিধাভোগীদের ভিড়: আন্দোলন যখন তুঙ্গে ছিল, তখন অনেকেই আড়ালে ছিলেন। কিন্তু আজ সফলতা আসার পর প্রতিদিন মিডিয়ায় নাম ফোটানো, নিউজ করানো এবং নিজেকে বড় কোনো নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব (উমুক-তমুক) হিসেবে জাহির করার এক নোংরা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
- আসল যোদ্ধাদের অবহেলা: যারা দিন-রাত এক করে, রক্ত ও ঘাম ঝরিয়ে আন্দোলন সফল করলেন, আজ তাদের খোঁজ নেওয়ার বা তাদের ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করার মানুষ খুব কম। এই অবহেলাই রাজপথের আসল বীরদের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
তরুণদের এই আক্ষেপের দায় কার?
আশরাফ জালাল খান মননের এই কথাগুলো শুধু তাঁর একার নয়, বরং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া হাজারো সাধারণ ছাত্র ও রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের মনের কথা। যখন আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও ত্যাগকে পেছনে ফেলে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পদ-পদবি পাওয়ার লড়াই বড় হয়ে ওঠে, তখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নটা ধাক্কা খায়।
যারা দেশের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পেছনে নিজেদের সবটুকু বিলিয়ে দিলেন, তাদের অবদানকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের প্রতি মননের এই বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার সস্তা প্রচারণার পেছনে না ছুটে, রাজপথের আসল ত্যাগী মানুষদের শ্রম ও ঘামের সঠিক সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হোক।








