টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে রাজপথে নেমেছে পরীক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ‘২০২৬ ব্যাচ এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ পরিচয়ে রাজধানী ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীদের একাংশ।
এর আগে তারা রাজধানীর ব্যস্ততম সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে মিছিলটি শিক্ষা বোর্ডের দিকে অগ্রসর হয়।
সায়েন্স ল্যাব থেকে শিক্ষা বোর্ড: আন্দোলনের টাইমলাইন
আজ সকাল থেকেই রাজধানীর রাজপথ শিক্ষার্থীদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। নিচে আজকের আন্দোলনের মূল ঘটনাক্রম তুলে ধরা হলো:
- বেলা ১১:৪৫ মিনিট: শিক্ষার্থীরা ‘২০২৬ ব্যাচ এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ পরিচয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।
- দুপুর ১২:৫৫ মিনিট: সায়েন্স ল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি উপাচার্য (ভিসি) চত্বরের পূর্ব পাশে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
- দুপুর ১:১৫ মিনিট: পুলিশি বাধার পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় পলাশী মোড় হয়ে বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং বোর্ড ঘেরাও করে।
শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি কী কী?
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বর্তমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূলত ৩টি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করছে। দাবিগুলো হলো:
- পরীক্ষা স্থগিত: দেশের সার্বিক বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।
- পুনঃপরীক্ষার সুযোগ: বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যেসকল শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের মুখ থেকে ‘দফা এক, দাবি এক মিলনের পদত্যাগ’ এবং শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন কঠোর স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা বোর্ড কর্তৃপক্ষ
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার পর বোর্ডের চেয়ারম্যান তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক ও তাৎক্ষণিক দাবির বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে শুনছি। তাদের বিষয়গুলো এবং সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আমরাও এই বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
বন্যা ও পরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা এবং ঢাকায় টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি, আবার অনেকের বইখাতাও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এই মানবিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিবেচনা করেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে বলে জানায়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে শিক্ষা বোর্ড এবং মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে লাখো এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। চলমান এই সংকট দ্রুত নিরসনে একটি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আসবে বলেই সকলের প্রত্যাশা।








