যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে এবং তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবিতে এবার ফুঁসে উঠেছে দেশটির সাধারণ জনগণ। ‘স্বৈরাচার বিরোধী’ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে আমেরিকার রাজপথ।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগোসহ বড় বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। তাদের দাবি একটাই ট্রাম্পের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের অবসান।
শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের বাধা: বাড়ছে উত্তেজনা
বেশিরভাগ শহরে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে চললেও, কিছু কিছু জায়গায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি পেশ করছিলেন, কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করেছে।
বিশেষ করে সিয়াটল এবং পোর্টল্যান্ডে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
কেন এই হঠাৎ আন্দোলন?
বিক্ষোভকারীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করছে। তাদের মূল অভিযোগগুলো হলো:
- স্বৈরাচারী মনোভাব: বিরোধীদের দমন করা এবং একচেটিয়া সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া।
- অভিবাসন নীতি: অভিবাসীদের প্রতি কঠোর এবং অমানবিক আচরণ।
- অর্থনৈতিক বৈষম্য: সাধারণ মানুষের চেয়ে ধনীদের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া।
একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা আর চুপ থাকতে পারি না। আমেরিকা গণতন্ত্রের দেশ, এখানে কোনো স্বৈরাচারের স্থান নেই।”
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিক্ষোভ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে সামনেই যদি কোনো নির্বাচন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থাকে, তবে এই জনরোষ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস নামাতে পারে।
তবে ট্রাম্প সমর্থকরাও পাল্টা সমাবেশের ডাক দিচ্ছেন। ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি।
সরকার এখন পর্যন্ত কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরাও পিছু হটতে নারাজ। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম








