ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার হওয়া শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। নিহত রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের পড়াশোনাসহ ভবিষ্যতের সমস্ত সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাতে রামিসার শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই মানবিক আশ্বাস ও দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। এই সময় প্রধানমন্ত্রী ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন এবং এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
শোকার্ত পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী
সম্প্রতি শিশু রামিসা আক্তারের ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ভুক্তভোগী পরিবারটির খোঁজ নিতে যান। বৃহস্পতিবার রাতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন তিনি। রামিসার মা-বাবার অবর্ণনীয় কষ্ট ও শোকের কথা শোনেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
বড় বোন রাইসা আক্তারের দায়িত্ব গ্রহণ
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি বড় মানবিক ঘোষণা দেন। তিনি নিহত রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের সার্বিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের মধ্যে রয়েছে:
- শিক্ষাজীবনের ব্যয়ভার: রাইসা আক্তারের পড়াশোনার সমস্ত খরচ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
- ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য রাইসাকে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
- পারিবারিক সহায়তা: অসহায় পরিবারটিকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাতে এবং তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্রুত ও কঠোর বিচারের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমান সরকার অপরাধীদের দমনে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
তিনি রামিসার পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই জঘন্যতম অপরাধের তদন্ত অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব ছাড়াই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মমতার শিকার হতে না হয়।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও সুধীসমাজের বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রীর এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের সুধীসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা। অনেকেই মনে করছেন, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন সরাসরি অংশগ্রহণ বিচার প্রক্রিয়ার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তবে এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু একটি ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, বরং দেশজুড়ে শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী এবং কার্যকর আইনি সংস্কার ও কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।








