দেশের সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরেক দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই নতুন দামের ঘোষণা দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।
২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন থেকে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায় পাওয়া যাবে। এর আগে এই ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা সাশ্রয় হবে ক্রেতাদের।
২১, ১৮ ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের নতুন রেট চার্ট
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, বাজুস অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও কমিয়ে নির্ধারণ করেছে। নিচের তালিকায় আজকের নতুন দাম দেওয়া হলো:
| স্বর্ণের ধরণ | বর্তমান দাম (প্রতি ভরি) | আগের দাম (প্রতি ভরি) |
| ২২ ক্যারেট | ২,৪২,৪৯৫ টাকা | ২,৪৪,৭১১ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,৩১,৪৭২ টাকা | ২,৩৩,৫৭২ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৯৮,৪০৫ টাকা | ২,০০,২১৩ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৬১,৬০৫ টাকা | ১,৬৩,০৬৩ টাকা |
কেন কমল স্বর্ণের দাম?
বাজুসের তথ্যমতে, বিশ্ববাজার এবং স্থানীয় মার্কেটে তেজাবি স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় তারা এই সমন্বয় করেছে। এর আগে গত ৭ মে শেষবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। তবে এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই বর্ধিত দাম থেকে সরে এসে আবারও কমানোর সিদ্ধান্ত নিল বাজুস।
চলতি বছরের মূল্য সমন্বয়ের পরিসংখ্যান
স্বর্ণের বাজার বর্তমানে বেশ অস্থিতিশীল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৪ বার স্বর্ণের দামের পরিবর্তন বা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে:
- দাম বাড়ানো হয়েছে: ৩৫ বার।
- দাম কমানো হয়েছে: ২৯ বার।
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালেও দেশের বাজারে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই দেশের বাজারে এই উঠানামা নিয়মিত চলছে।
বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের জন্য যারা স্বর্ণ কেনার কথা ভাবছিলেন, তাদের জন্য এই দাম কমার বিষয়টি একটি সুবর্ণ সুযোগ। তবে স্বর্ণের দাম যেহেতু প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, তাই যেকোনো সময় এটি আবার বাড়তে পারে। জুয়েলারি মালিকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম কমবে নাকি বাড়বে।








