হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeব্যবসা ও শিল্পদেশে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা: আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
spot_img

দেশে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা: আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করে দেশে হঠাৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ‍্যাস বা এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড জানিয়েছে, তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক জরুরি নোটিশের মাধ্যমে এই কঠোর কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এই ঘোষণার ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে রান্নার গ্যাস নিয়ে চরম হাহাকার বা সংকটের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোক্তারা।

কেন হঠাৎ গ্যাস বিক্রি বন্ধ?

হঠাৎ করে কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যবসায়ীরা? এর পেছনে প্রধানত দুটি বড় দাবির কথা জানিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তাদের মূল দাবিগুলো হলো:

১. মূল্য সমন্বয়: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই নতুন করে এবং যৌক্তিকভাবে মূল্য সমন্বয় করতে হবে।

২. হয়রানি বন্ধ: বিভিন্ন অজুহাতে প্রশাসন বা পুলিশ কর্তৃক গ্যাস পরিবেশক ও ডিলারদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং অযৌক্তিক জরিমানা করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় আজ সকাল থেকেই তারা ধর্মঘট পালন শুরু করেছেন।

নোটিশে যা বলা হয়েছে

ব্যবসায়ী সমিতির দেওয়া নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “আগামী ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সব এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া সব কোম্পানি প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।”

অর্থাৎ, শুধু খুচরা পর্যায়ে দোকানপাটেই বিক্রি বন্ধ নয়, মূল প্ল্যান্ট বা ডিপো থেকেও গ্যাস সরবরাহ করা হবে না। এর ফলে সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কা

বাংলাদেশে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক মানুষ রান্নার কাজের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস নেই, সেখানে সিলিন্ডারই একমাত্র ভরসা। হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ গৃহস্থালি থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগে পড়েছেন।

বাজার পরিস্থিতি আগে থেকেই অস্থিতিশীল ছিল। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। গ্রাহকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না, অথবা পেলেও চড়া দাম দিতে হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংকট নিরসনে করণীয় কী?

ব্যবসায়ীরা তাদের অবস্থানে অনড়। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। অন্যদিকে, ভোক্তারা জিম্মি দশা থেকে মুক্তি চান। এমতাবস্থায় সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিইআরসি-কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গ্যাসের মতো জরুরি পণ্য যদি দীর্ঘ সময় বাজারে না পাওয়া যায়, তবে কালোবাজারি ও অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি এখন সবার।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!