বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত নাম ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাবা তারেক রহমানের সাথে দেশে ফেরার পর থেকেই তাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও নতুন প্রজন্মের বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাইমা রহমানকে জনসমক্ষে আনার মাধ্যমে বিএনপি তাদের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে। তারেক রহমানের পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে তাকে এখন থেকেই প্রস্তুত বা ‘গ্রুমিং’ করা হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের তরুণ সমাজ (জেন-জি) যেভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে, তাদের আকৃষ্ট করতে জাইমা রহমানের মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও আধুনিক মানসিকতার তরুণীকে বেছে নিয়েছে দলটি।
নারী নেতৃত্ব ও আধুনিক ভাবমূর্তি
সম্প্রতি ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে জাইমা রহমান নারী ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় নীতি নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং অনলাইনে নারী হয়রানি বন্ধের বিষয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন। বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, বিএনপি জাইমা রহমানকে সামনে এনে এই বার্তা দিতে চায় যে, তারা শুধু ঐতিহ্যবাহী রাজনীতি নয়, বরং পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত এবং আধুনিক নারী নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
“আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েছি ভিন্ন এক অনুভূতি নিয়ে। দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটিই আমার প্রথম বক্তব্য। সমাজের জন্য আমাদের সবারই কিছু করার দায়বদ্ধতা আছে।” জাইমা রহমান (ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য)
নির্বাচন ও তরুণ ভোটারদের টার্গেট
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে চায়। জাইমা রহমান ইতোমধ্যে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এটি পরিষ্কার নির্দেশ করে যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভাষা ও রুচি অনুযায়ী নিজেদের উপস্থাপন করতে বিএনপি এখন অনেক বেশি কৌশলী।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাইমা রহমানের উপস্থিতি
শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে জাইমা রহমান নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। ২০২৫ সালের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’-এ অংশ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। এতে বিএনপির বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর কাছেও দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
যদিও জাইমা রহমান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির কোনো দলীয় পদে নেই, তবে তার প্রতিটি পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি কি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেবেন নাকি নেপথ্যে থেকে দলকে সহায়তা করবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, জাইমা রহমানের উপস্থিতি বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।








