হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
spot_img

ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট। অধিকাংশ মানুষ তখন গভীর ঘুমে। ঠিক সেই সময়েই আকস্মিক এক কম্পনে কেঁপে ওঠে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.১, যা মৃদু ভূমিকম্প হিসেবে পরিচিত। তবে ঘুমের ঘোরে এমন কম্পন সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক ভীতি সৃষ্টি করেছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতা

আবহাওয়া অধিদফতরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, এই ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। সাধারণত ভূমিকম্পের গভীরতা বেশি হলে ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। এই ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে। গভীরতা বেশি থাকার কারণে বড় ধরনের কোনো ভবন ধস বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য

শুধু বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরই নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও এই ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (EMSC) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) তাদের ডাটাবেজে একই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, কম্পনটি মৃদু হলেও এর রেশ বেশ কিছু এলাকা জুড়ে অনুভূত হয়েছে।

কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি?

সাতক্ষীরা ও এর আশেপাশের জেলাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ৪.১ হওয়ায় এবং উৎপত্তিস্থল অনেকটা গভীরে থাকায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে গ্রাম ও শহরের অনেক মানুষ কম্পন অনুভব করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

কেন বারবার কাঁপছে বাংলাদেশ? বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • বাংলাদেশ ভূ-গাঠনিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত।
  • ছোট ছোট ভূমিকম্প হওয়া মানে মাটির নিচে বড় ধরনের শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে।
  • বারবার ছোট কম্পন হওয়া বড় কোনো ভূমিকম্পের আগাম সংকেত হতে পারে।

বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং সিলেট অঞ্চল এখন আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মেনে চলা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ভূমিকম্পের সময় আপনার করণীয়

যেহেতু বর্তমানে দেশে ঘন ঘন কম্পন অনুভূত হচ্ছে, তাই আমাদের কিছু সাধারণ প্রস্তুতি রাখা উচিত:

১. ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকুন।

২. ঘরের শক্ত কোনো আসবাবপত্র (যেমন- টেবিল বা খাট) এর নিচে আশ্রয় নিন।

৩. লিফট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করুন।

৪. খোলা মাঠে বা ফাঁকা জায়গায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।


সাতক্ষীরার এই মৃদু ভূমিকম্প আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে। তাই সচেতনতাই হতে পারে আমাদের প্রধান সুরক্ষা।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!