ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক। একই ঘটনায় উপাচার্যের একান্ত সহকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেনও তাঁদের পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার একটি দল প্রবেশ করে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই এই দুজন পদত্যাগ করেন। তবে পদত্যাগের পরপরই এটি স্বেচ্ছায় দেওয়া পদত্যাগ নয় বলে দাবি করেছেন উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক।
স্বেচ্ছায় নয়, জোর করে সই নেওয়ার দাবি উপাচার্যের
ঘটনাবলি নিশ্চিত করে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে আমার স্বাক্ষর আদায় করা হয়েছে। আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি ইতোমধ্যেই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মব ও অবরুদ্ধ করার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক সুনির্দিষ্টভাবে জানান, ‘ঠিকাদারদের কিছু লোক, যারা অন্যায্য কাজের জন্য আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, তারাই একটি মব তৈরি করে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’
উপাচার্য ও সেকশন অফিসারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, বিদায়ী উপাচার্য জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে।
তাঁদের প্রধান প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
- সরকারি সম্পদ বিক্রি: বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রকল্পের গাছ, পুরোনো ভবন ও সীমানাপ্রাচীর বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগ।
- টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি: টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি অনিয়ম এবং রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়ম।
- নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতি: বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন ও বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়োগ দেওয়া।
একই সাথে তাঁর একান্ত সহকারী নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও আর্থিক বিভিন্ন অনিয়মে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। এসব অনিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভেতরের অসন্তোষ চরম রূপ নিয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।
অভিযোগের সত্যতা ও বর্তমান অবস্থা
আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তুলে ধরলেও এসব অভিযোগের শতভাগ সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপাচার্য ও সেকশন অফিসারের বিস্তারিত দাপ্তরিক বক্তব্য পরবর্তীতে পাওয়া যায়নি। ঘটনার নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদত্যাগের ঘটনা শিক্ষা ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও অবরুদ্ধ অবস্থা, অন্যদিকে জোরপূর্বক সই নেওয়ার ভিসির পাল্টা দাবি সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।








