এক অদ্ভুত কৌশল যা বারবার সফল
টিভি বা অন্য কোনো ডিভাইসের রিমোট কন্ট্রোলার হঠাৎ করে কাজ করা বন্ধ করে দিলে বেশিরভাগ মানুষই বহু বছরের পরীক্ষিত একটি কৌশলের আশ্রয় নেন রিমোটটিকে হাতে বা টেবিলে হালকা চাপড় দেওয়া। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, এই আপাতদৃষ্টিতে ‘অবৈজ্ঞানিক’ কৌশলটি প্রায়শই মৃতপ্রায় ব্যাটারিকে যেন কিছুক্ষণের জন্য প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। ব্যাটারির চার্জ যখন ফুরিয়ে আসে, বিশেষত সেই বিব্রতকর অন্তর্বর্তীকালীন মুহূর্তগুলোতে, কেন এই ঝাঁকানো বা চাপড় দেওয়ার পদ্ধতি কাজ করে? যদিও পদ্ধতিটিকে বিজ্ঞানসম্মত মনে হয় না, তবুও এর পেছনে কিছু সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
কেন কাজ করে রিমোটে চাপড় দেওয়ার কৌশল?
রিমোটে হালকা আঘাত বা চাপড় দেওয়ার কারণে ব্যাটারির অভ্যন্তর ও বাহ্যিক সংযোগস্থলে যে পরিবর্তন আসে, বিজ্ঞানীরা সেটিকে কেন্দ্র করেই কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ারও এই বিষয়ে আলোকপাত করেছে।
সংযোগস্থলে ক্ষয় বা অক্সিডেশন স্তর দূর হওয়া
সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির টার্মিনাল এবং রিমোট কন্ট্রোলারের ধাতব সংযোগস্থলে অক্সিডেশন বা ক্ষয়ের একটি পাতলা স্তর তৈরি হয়।
- সংযোগে বাধা: এই ক্ষয়ের স্তর খুব পাতলা হলেও, এটি বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা তৈরি করতে পারে, যার ফলে রিমোট কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
- পুনঃস্থাপন: রিমোট কন্ট্রোলারে হালকা চাপ পড়লে বা এটিকে ঝাঁকানো হলে সেই ক্ষয়ের স্তরটি সাময়িকভাবে নড়ে যায় বা সরে যায়। এতে ধাতব সংযোগ আবার স্থাপিত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের পথ তৈরি হয়। ফলে রিমোটটি আরও কিছুক্ষণের জন্য কাজ করতে পারে।
ব্যাটারির ভেতরের উপাদানগুলোর পুনঃসক্রিয়তা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক উপাদানগুলির গঠন পরিবর্তনকে ঘিরে। একবার ব্যবহারযোগ্য ব্যাটারিতে (যেমন অ্যালকালাইন বা লিথিয়াম) অ্যানোড, ক্যাথোড এবং ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো শক্তি উৎপন্ন করে।
- প্রায় নিঃশেষিত শক্তি: যখন এই উপাদানগুলো প্রায় নিঃশেষ হয়ে আসে, তখন ব্যাটারিকে ‘ডেড’ বা মৃত মনে হয়।
- শক্তি নির্গমন: একটি জোরালো চাপ বা ঝাঁকুনি ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক উপাদানগুলোকে সামান্য নড়িয়ে দিতে পারে। এই নড়াচড়ার ফলে অবশিষ্ট থাকা অল্প শক্তিটুকু ছেড়ে দেয় (যা আগে নিষ্ক্রিয় ছিল), আর তাতেই রিমোট কিছু সময়ের জন্য আবার সচল হয়ে ওঠে।
লিকেজ এবং দুর্বল সংযোগ মেরামত
ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ক্ষয় বা লিকেজ। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলেও এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- ক্ষয়জনিত দুর্বলতা: এই লিকেজের ফলে ব্যাটারির সংযোগস্থলে সাদা বা সবুজ পাউডারের মতো পদার্থ তৈরি হতে পারে। এমন অল্পমাত্রার ক্ষয়ও রিমোট কন্ট্রোলারের টার্মিনাল ও ব্যাটারির সংযোগ দুর্বল করে দেয়।
- আঘাতের প্রভাব: রিমোট কন্ট্রোলারে চাপ লাগলে ব্যাটারিটি সামান্য নড়ে যায়, ফলে সংযোগকারী ধাতব প্লেটগুলো ব্যাটারির পোলগুলোর সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত হয়। এতে সংযোগের দুর্বলতা খানিকটা কেটে যায় এবং রিমোট পুনরায় কাজ শুরু করতে পারে।
বৈজ্ঞানিক নিশ্চিততা এবং ব্যবহারিক সত্য
যদিও উপরে উল্লিখিত ব্যাখ্যাগুলো খুবই যৌক্তিক, বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি ঠিক কোন নির্দিষ্ট কারণে এই কৌশলটি কাজ করে। হতে পারে কারণটি উপরে দেওয়া ব্যাখ্যাগুলোর যেকোনো একটি, অথবা অন্য কোনো অজানা প্রক্রিয়া কাজ করে।
তবুও বাস্তবতা হলো, শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক না কেন, রিমোট কন্ট্রোলারে আঘাত করার এই প্রচলিত কৌশলটি শত শত ব্যবহারকারীর কাছে একটি কার্যকরী ‘লাইফ হ্যাক’ হিসেবে টিকে আছে। যতদিন না ব্যাটারির শক্তি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এটি একটি সহজ ও দ্রুত সমাধান হিসেবে কাজ করে।








