সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) আহ্বান জানিয়েছেন চীন ও ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে। তার দাবি, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ট্রাম্পের প্রস্তাব ১০০ শতাংশ শুল্ক চীন ভারত শুধু অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কী বলছেন ট্রাম্প?
ফাইন্যানশিয়াল টাইমস ও রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করেন চীন ও ভারত রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই যদি এই দুই দেশে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বন্ধ বা ব্যয়বহুল করা হয়, তবে রাশিয়ার ওপর পরোক্ষভাবে চাপ বাড়বে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ইইউ যদি এমন শুল্ক আরোপ করে, তাহলে আমেরিকাও সমান হারে ১০০% শুল্ক বসাতে প্রস্তুত।”
কেন চীন-ভারতের ওপর শুল্ক?
ট্রাম্পের প্রস্তাব ১০০ শতাংশ শুল্ক চীন ভারতকে ঘিরে মূল কারণ হলো রাশিয়ার সঙ্গে এই দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগের কৌশল খুঁজছে। ট্রাম্পের মতে, যদি চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করা যায়, তবে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন হবে।
ভারতের সঙ্গে ট্রাম্পের টানাপোড়েন
ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনে আগেও শুল্ক আরোপ করেছিলেন। ভারতীয় পণ্যের ওপর তিনি প্রায় ৫০% পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছিলেন। যদিও সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যেই তার নতুন দাবি—ট্রাম্পের প্রস্তাব ১০০ শতাংশ শুল্ক চীন ভারত—আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের শুল্ক আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি ট্রাম্পের আহ্বান মেনে নেয়, তবে চীন ও ভারতের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এতে যুক্ত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের প্রস্তাব ১০০ শতাংশ শুল্ক চীন ভারত: ইইউকে চাপের আহ্বানট্রাম্প ও ভারতের বাণিজ্য
ট্রাম্পের এমন চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। যদি ইউরোপ ও আমেরিকা একসঙ্গে এই শুল্ক আরোপ করে, তবে বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।








