বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন। তিনি বলেছেন, সমালোচনা কেবল বিরোধিতার জন্য হওয়া উচিত নয়, বরং তা হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, তাই তাদের দায়িত্ব অপরিসীম।
সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় যুক্ত হয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বাংলাদেশ, যেখানে গণমাধ্যম ভয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করবে।
গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান
তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। রাজনীতিবিদরা বা যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন, তারাও ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাই গণমাধ্যমের কাজ হলো সেই ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া।
তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা এমন সমালোচনা করুন যা দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। সমালোচনা যেন আমাকে বা আমার দলকে খাটো করার জন্য না হয়, বরং আমাদের ভুলগুলো শুধরে দেওয়ার জন্য হয়।”
তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল যেমন সরকারের ভুল ধরে, তেমনি গণমাধ্যমও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সত্য তুলে ধরে। এটি দেশকে সঠিক পথে রাখতে সাহায্য করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিশ্চয়তা দেন যে, ভবিষ্যতে তার দল সরকার গঠন করলে গণমাধ্যমকর্মীরা স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার গুরুত্ব
সাংবাদিকদের জাতির বিবেক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আগামীতে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে যেখানে কোনো সাংবাদিককে সত্য লিখতে গিয়ে ভয় পেতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা ‘ইয়েলো জার্নালিজম’ বা হলুদ সাংবাদিকতা নয়, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের চর্চা করবেন। আপনারা সরকারের প্রশংসা করবেন ভালো কাজের জন্য, আবার ভুল হলে কঠোর সমালোচনাও করবেন।”
রাষ্ট্র সংস্কারে মিডিয়ার ভূমিকা
বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের যাত্রায় সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রকে মেরামত করতে হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আর এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম হাতিয়ার হলো স্বাধীন গণমাধ্যম।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতি দমনে সাংবাদিকদের কলম যেন আপোষহীন থাকে, সেই আহ্বানও জানান তিনি। তিনি বলেন, “আপনাদের লেখনী যেন শোষিতের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলে।”
আগামীর বাংলাদেশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানান, অতীতে যেমন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো কালো আইন দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ ধরনের কোনো কালো আইন থাকবে না।
তিনি বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা চাই এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে কেউ সত্য কথা বললে তাকে বিপদে পড়তে হবে না। তবে সেই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিতে হবে।”
তিনি দেশ ও দশের মঙ্গলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।








