হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Tuesday, September 22, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: গণতন্ত্রের পথে...
spot_img

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: গণতন্ত্রের পথে কি দূর হবে বাধা?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত খবর হলো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তিনি আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন। এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে এসে পৌঁছাবেন। আমরা দলের পক্ষ থেকে এবং সকলের পক্ষ থেকে তার এই আগমনকে শুধু স্বাগতই নয়, আনন্দের সঙ্গে সমগ্র জাতিকে জানাতে চাইছি।”

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনের খবর নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন দেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে, তখন তারেক রহমানের ফিরে আসা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গণতন্ত্রের পথে বাধা দূর হওয়ার আশা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে গণতন্ত্রের অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আজকে এই গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যেসব বাধা সৃষ্টি হয়েছিল, আমরা মনে করি, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব দেশে এসে পৌঁছালে সেসব বাধা দূর হয়ে যাবে।”

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারেক রহমানের সাজার রায় বাতিল এবং কিছু মামলায় আইনি অব্যাহতি পাওয়ার পর তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে বিএনপি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। এখন তার সরাসরি উপস্থিতিতে দলের নেতা-কর্মীরা নতুন করে উজ্জীবিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ নির্বাসনের আখ্যান

তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবনের শুরুটা ছিল এক-এগারোর পটপরিবর্তনের সময়। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাবন্দী অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০০৮ সালে তিনি সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। সেই থেকে তিনি লন্ডনেই বসবাস করছিলেন।

এই দীর্ঘ সময় ধরে, দেশের বাইরে থেকেও তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। ভার্চুয়ালি তিনি দলের বিভিন্ন সভা, বৈঠক এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে শারীরিকভাবে দেশের মাটিতে তার অনুপস্থিতি দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল।

প্রায় ১৭ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তনের ঘটনা শুধু তারেক রহমান বা বিএনপির জন্যই নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্যও একটি মাইলফলক।

দেশে ফেরার আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত বছর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই পটপরিবর্তনের পরেই তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।

বিএনপি নেতারা প্রায়শই বলতেন, তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন, তবে সুনির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখ জানানো হচ্ছিল না। আইনি জটিলতাগুলো দূর হওয়ার পরই মূলত তার দেশে ফেরার তারিখ চূড়ান্ত করা হলো। সরকারের পক্ষ থেকেও একাধিকবার বলা হয়েছে যে, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই, তবে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে।

বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। এই সময়ে তারেক রহমানের আগমন দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ

তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় নেতারাও এই খবর শুনে উচ্ছ্বসিত। তার আগমন উপলক্ষে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

জানা গেছে, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে তাকে বরণ করে নিতে দলের নেতা-কর্মীরা ঐতিহাসিক সংবর্ধনার আয়োজন করতে পারেন। বিমানবন্দর থেকে তার গন্তব্য পর্যন্ত পথে পথে জনতার ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংবর্ধনাটি হবে তারেক রহমানের প্রতি দলের নেতা-কর্মীদের আনুগত্য এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

দলীয় সূত্র থেকে আরও জানা যায়, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান ঢাকায় তার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’-সহ আরও একটি বাসায় অবস্থান করবেন। দেশে ফিরে তিনি দলের সাংগঠনিক কাজগুলোকে আরও গতিশীল করতে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রভাব

তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপির নেতৃত্বে নতুন উদ্দীপনা

দীর্ঘদিন ধরে দূর থেকে দল পরিচালনা করলেও, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপিত হবেন। সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসবে, এবং নির্বাচনের আগে এটি দলের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। তার উপস্থিতিতে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হতে পারে।

নির্বাচনী কৌশলে পরিবর্তন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক দিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশে ফিরে তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কৌশল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা দলের নির্বাচনী পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

দলের ঐক্য ও সংহতি

গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে একটি ঐক্যের ধারা তৈরি হয়েছে। তারেক রহমানের উপস্থিতি এই ঐক্যকে আরও সংহত করতে সাহায্য করতে পারে। তিনি হয়তো দেশের গণতন্ত্রকামী সকল দল ও জোটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন।

জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি

দীর্ঘদিনের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে, যারা তাকে ভার্চুয়ালি দেখে এসেছেন, তাদের মধ্যে সরাসরি একজন প্রভাবশালী নেতাকে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের মনোযোগ বাড়াতে পারে।

ইতিহাসের পাতায় তারেক রহমান

তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য বহন করে তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে এসেছেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন, মামলা-হামলা এবং দীর্ঘ নির্বাসন সবকিছুই বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখন তার দেশে ফেরা, দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়।

দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা

তারেক রহমানের মতো একজন হাই-প্রোফাইল নেতার দেশে ফেরা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতা-কর্মীদের কাছে সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, তারেক রহমানের আগমন যেন আনন্দঘন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এই আগমন উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নেবে বলে আশা করা যায়, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হোক এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!