নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে পরিচিত সুশীলা কারকি (Sushila Karki) সম্প্রতি দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ৭৩ বছর বয়সী এই আইনজীবী ও বিচারপতি নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা
সুশীলা কারকি ১৯৫২ সালের ৭ জুন নেপালের মোরাং জেলার শঙ্করপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনজীবী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭৯ সালে বিরাটনগরে। তিনি ২০০৮ সালে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে অভিষিক্ত হন।
বিচারপতি হিসেবে কর্মজীবন
সুশীলা কারকি ২০০৯ সালে নেপালের সুপ্রিম কোর্টের অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১০ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে তিনি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন, যার ফলে তিনি রাজনৈতিক মহলে সমালোচিত হলেও জনগণের মধ্যে প্রশংসিত হন। ২০১৭ সালে একটি পুলিশ প্রধানের নিয়োগ বাতিলের রায়ের পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, তবে জনমত ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তা প্রত্যাহার করা হয়।
অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে সুশীলা কারকিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১২ সেপ্টেম্বর শপথ গ্রহণ করেন এবং আগামী ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। তার এই নিয়োগ নেপালের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সুশীলা কারকির ব্যক্তিগত জীবন
সুশীলা কারকির স্বামী দুর্গা প্রসাদ সুবেদী, যিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সহপাঠী ছিলেন, নেপালি কংগ্রেসের যুব নেতা ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে নেপালি কংগ্রেসের পক্ষে পঞ্চায়েত শাসনের বিরুদ্ধে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। সুশীলা কারকি নেপালি, ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষায় দক্ষ।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
সুশীলা কারকির নেতৃত্বে নেপাল নতুন রাজনৈতিক দিশা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান ও বিচারিক সততা তাঁকে জনগণের মধ্যে আস্থা অর্জনে সহায়তা করেছে। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নেপাল একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
সুশীলা কারকির এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। তার নেতৃত্বে দেশটি নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাবে, এমন আশা করা হচ্ছে।








