দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে এক কঠোর ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে যদি শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে না পারে এবং গণিতের মৌলিক নিয়মগুলো (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
লক্ষ্যমাত্রা ও সময়সীমা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই কঠোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সময়সীমাগুলো হলো:
- জুন ২০২৬: তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা-ইংরেজি পাঠ ও গণিতে ৯০ শতাংশ দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
- জুলাই ২০২৬: এই দক্ষতার হার উন্নীত করতে হবে ১০০ শতাংশে। অর্থাৎ জুলাইয়ের পর কোনো শিক্ষার্থীই যেন রিডিং বা সাধারণ গণিতে পিছিয়ে না থাকে।
শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন
শিক্ষার্থীদের এই মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ কিছু দাপ্তরিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- শব্দ করে পাঠ: তৃতীয় শ্রেণির বাংলা এবং পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যবই থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫ পৃষ্ঠা শব্দ করে পড়াতে হবে।
- গণিতের ওপর জোর: চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাধারণ পাঠের পাশাপাশি যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের ওপর বিশেষ ক্লাস নিতে হবে।
- বিশেষ পরিকল্পনা: প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করে আগামী ১০ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।
কেন এই কঠোর ব্যবস্থা?
মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষার্থীদের মৌলিক পঠন দক্ষতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপরের শ্রেণিতে উঠলেও শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে বা সাধারণ অংক করতে পারছে না। এই শিখন ঘাটতি দূর করতেই শিক্ষকদের ওপর এই দায়ভার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা
ইতিমধ্যেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশনার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। একজন শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার— শিক্ষার্থীরা যদি ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে, তবে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবি রাখতে পারেন না।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষা লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে যাতে জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র বদলে যায়।
প্রাথমিক শিক্ষার বুনিয়াদ মজবুত করতে সরকারের এই পদক্ষেপ শিক্ষক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও অভিভাবকরা একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ পঠন দক্ষতা নিশ্চিত করে শিক্ষকরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন কি না। শিক্ষা বিষয়ক আরও খবরের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।








