বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবশেষে তাদের টানা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের পর আজ মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘোষণা দেন তারা। এর ফলে আগামীকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণীর স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হতে চলেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত ও আন্দোলন প্রত্যাহার
দীর্ঘদিন ধরে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি।
- সিদ্ধান্ত কার্যকর: আজ অর্থ মন্ত্রণালয় বাড়িভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। এরপরই বাড়িভাড়া বাড়ানোর আদেশের কপি আন্দোলনকারী শিক্ষকনেতাদের হাতে তুলে দেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।
- প্রত্যাহারের ঘোষণা: সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে আমাদের সব আন্দোলন ও কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলো। আগামীকাল থেকে আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরছি।”
শিক্ষক নেতারা জানান, তারা গত ১২ অক্টোবর থেকে টানা আট দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন।
বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন
দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। তবে এটি একবারে কার্যকর হবে না, বরং দুই ধাপে কার্যকর হবে:
- প্রথম ধাপ: আগামী নভেম্বর মাস থেকে বাড়িভাড়া সাড়ে ৭ শতাংশ (যা দুই হাজারের নিচে নয়) কার্যকর হবে।
- দ্বিতীয় ধাপ: বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে।
ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতি শনিবার ক্লাস
টানা আট দিনের আন্দোলনের ফলে যে শিক্ষাকার্যক্রমের ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা। দেলাওয়ার হোসেন জানান, আন্দোলনে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের জন্য:
বার্ষিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি শনিবার খোলা রাখা হবে।
আন্দোলনে সংহতি জানানোয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন সহ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।








