হরর এবং স্ল্যাশার মুভি প্রেমীদের জন্য দারুণ খবর! দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপালি পর্দায় ফিরছে কালজয়ী হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্ক্রিম’-এর সপ্তম কিস্তি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্বজুড়ে মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত সিনেমা ‘স্ক্রিম ৭’। ভয়, রক্তারক্তি আর রহস্যের মিশেলে তৈরি এই সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্ক্রিম ৭: সিরিজের নতুন এক মাইলফলক
১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া ‘স্ক্রিম’ সিরিজটি দশকের পর দশক ধরে বিশ্বজুড়ে হরর-থ্রিলার প্রেমীদের আস্থার নাম। এটি ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্ক্রিম ৬’-এর সরাসরি সিক্যুয়েল। এবারের কিস্তিটি শুধু একটি সাধারণ হরর মুভি নয়, বরং এটি সিরিজের মূল আমেজ আর আধুনিক ভয়ের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ।
পর্দার আড়ালের গল্প ও নির্মাণ কাহিনীর মোড়
‘স্ক্রিম ৭’ নির্মাণের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। সিনেমাটি বেশ কয়েকবার সৃজনশীল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
- পরিচালনা: ২০২৩ সালে আগের দুই কিস্তির পরিচালক ম্যাট বেটিনেলি-ওলপিন এবং টাইলার গিলেটের প্রস্থানের পর ক্রিস্টোফার ল্যান্ডনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু মেলিসা ব্যারেরা ও জেনা ওর্তেগার মতো তারকাদের প্রস্থানের পর ল্যান্ডনও প্রকল্পটি ছেড়ে দেন।
- কেভিন উইলিয়ামসনের ফেরা: শেষ পর্যন্ত সিরিজের মূল লেখক এবং নির্মাতা কেভিন উইলিয়ামসন প্রথমবার পুরো সিনেমা পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এর চিত্রগ্রহণ শুরু হয়ে মার্চ মাসে শেষ হয়।
ফিরে আসছেন প্রিয় তারকারা
এবারের কিস্তির সবচেয়ে বড় চমক হলো সিরিজের আইকনিক চরিত্র সিডনি প্রেসকট হিসেবে নেভ ক্যাম্পবেলের প্রত্যাবর্তন। আগের কিস্তিতে তাকে দেখা না গেলেও, ভক্তদের চাপে ও গল্পের প্রয়োজনে তিনি আবার ফিরেছেন। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন:
- জেসমিন স্যাভয় ব্রাউন ও ম্যাসন গুডিং
- ডেভিড আর্কেট (ডিউই রিলির ভূমিকায়)
- কোর্টেনি কক্স ও ম্যাথিউ লিলার্ড
- এছাড়াও রয়েছেন ইসাবেল মে, আনা ক্যাম্প এবং ম্যাকেনা গ্রেসের মতো পরিচিত মুখেরা।
গল্পের মূল রহস্য: সিডনি ও নতুন ঘোস্টফেস
সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে সিডনি প্রেসকটকে কেন্দ্র করে। সিডনি এখন ইন্ডিয়ানার শান্ত শহর পাইন গ্রোভে নিজের জন্য একটি নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তার শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
গল্পের মোড়: একজন নতুন ‘ঘোস্টফেস কিলার’ এবার সিডনির মেয়ে ট্যাটুমকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। নিজের সন্তানকে বাঁচাতে সিডনিকে আবারও তার অতীতের ভয়ংকর স্মৃতির মুখোমুখি হতে হয়। খুনের রহস্য ভেদ করে ঘাতককে থামানোই এখন তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রজার এল. জ্যাকসন বরাবরের মতো ঘোস্টফেসের সেই পরিচিত ও ভয়ার্ত কণ্ঠস্বরে কণ্ঠ দিয়েছেন, যা দর্শকদের গায়ের লোম খাড়া করে দিতে বাধ্য।
বক্স অফিস কাঁপানোর ইঙ্গিত
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ডেডলাইন হলিউড’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ‘স্ক্রিম ৭’ কোটি টাকার ব্যবসা করার পথে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ‘স্ক্রিম ৬’-এর ৪৪.৪ মিলিয়ন ডলারের ঘরোয়া রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাবে। ভক্তদের ধারণা, এটি সিরিজের শেষ অধ্যায় হতে পারে, তবে আকাশচুম্বী সাফল্য পেলে ভবিষ্যতে আরও সিক্যুয়েল আসার পথ খোলা থাকবে।
কেন দেখবেন ‘স্ক্রিম ৭’?
১. ক্লাসিক হরর স্টাইল: নব্বই দশকের সেই চিরাচরিত স্ল্যাশার মুভির আমেজ ফিরে পাবেন।
২. সিডনি প্রেসকটের প্রত্যাবর্তন: নেভ ক্যাম্পবেলকে আবার ঘোস্টফেসের বিরুদ্ধে লড়তে দেখা হবে বড় পর্দার অন্যতম আকর্ষণ।
৩. আধুনিক সিনেমাটোগ্রাফি: কেভিন উইলিয়ামসনের পরিচালনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মুভিটিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
বাংলাদেশে স্টার সিনেপ্লেক্সের সবকটি শাখায় ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই এই শিহরণ জাগানিয়া সিনেমাটি উপভোগ করা যাবে। আপনি যদি হার্ট-পাউন্ডিং থ্রিলার পছন্দ করেন, তবে টিকিট বুক করতে দেরি করবেন না!








