হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়সাতক্ষীরা-৩: মৃত ভোটারের স্বাক্ষরে বাতিল ডা. শহিদুল আলমের মনোনয়ন
spot_img

সাতক্ষীরা-৩: মৃত ভোটারের স্বাক্ষরে বাতিল ডা. শহিদুল আলমের মনোনয়ন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার প্রতিটি আসনে। এর মধ্যেই সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি ও দেবহাটা এবং কালিগঞ্জ আংশিক) আসনে ঘটল এক নাটকীয় ঘটনা। যাচাই-বাছাই শেষে এই আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও ড্যাব নেতা ডা. শহিদুল আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক এই প্রার্থীর জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর পাওয়া যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালীন এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এই ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কেন বাতিল হলো মনোনয়ন?

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি দলীয় মনোনয়ন ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তবে তাকে নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষরসহ তালিকা জমা দিতে হয়। ডা. শহিদুল আলম বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. শহিদুল আলমের জমা দেওয়া ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, তালিকায় এমন এক ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে যিনি আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। একজন মৃত ব্যক্তি কীভাবে সমর্থনসূচক স্বাক্ষর করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই জালিয়াতি বা ভুলের কারণে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

রিটার্নিং অফিসারের বক্তব্য

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার যাচাই-বাছাই শেষে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর অত্যাবশ্যক। আমরা ডা. শহিদুল আলমের দেওয়া তালিকা দৈবচয়ন ভিত্তিতে যাচাই করি। তদন্তে দেখা যায়, তালিকায় উল্লেখিত একজন ভোটার মৃত। যেহেতু শর্ত পূরণ হয়নি এবং তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে, তাই তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করা হলো।

ডা. শহিদুল আলমের রাজনৈতিক অবস্থান

ডা. শহিদুল আলম ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) একজন প্রভাবশালী নেতা এবং সাতক্ষীরায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার বেশ প্রভাব রয়েছে। তবে মনোনয়ন বাতিলের ফলে তার অনুসারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

আপিলের সুযোগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ডা. শহিদুল আলমের নির্বাচন করার সুযোগ এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল অথবা অন্য কোনো আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেন, তবে হয়তো তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ডা. শহিদুল আলম আপিল করেন কি না এবং নির্বাচন কমিশন সেই আপিলের প্রেক্ষিতে কী রায় দেয়।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!