বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষশাসিত প্রশাসনে এবার যুক্ত হচ্ছেন আরেক নারী উদ্যোক্তা ও কর্পোরেট নেত্রী রুবাবা দৌলা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়ে তিনি হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দ্বিতীয় নারী পরিচালক।
কর্পোরেট বিশ্বে সুপরিচিত এই নারী বর্তমানে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল বাংলাদেশ–নেপাল–ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ক্রিকেট প্রশাসনে তার আগমনকে নারী নেতৃত্বের উত্থান ও ইতিবাচক বিকাশ হিসেবে দেখছে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
এনএসসির মনোনয়ন পাওয়া সত্ত্বেও তার নাম ঘোষণায় কিছুটা দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারণ হিসেবে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রুবাবা বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার বর্তমান প্রতিষ্ঠান ওরাকল থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র নিতে চান। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে।
এর আগে এনএসসির মনোনয়ন পেয়ে বিসিবির পরিচালক হয়েছিলেন ইশফাক আহমেদ। কিন্তু আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে এনএসসি তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই রুবাবা দৌলার নাম চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।
কর্পোরেট নেতৃত্বের পাশাপাশি রুবাবা দৌলা আগে থেকেই জড়িত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ ১১ বছর তিনি গ্রামীণফোনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে গ্রামীণফোন ছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সর।
শুধু কর্পোরেট জীবনে নয়, পরিবারেও রয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তিনি খ্যাতিমান শিল্পী কামরুল হাসানের ভাগ্নি এবং কিংবদন্তি নজরুলসংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম তার ফুফু। রুবাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর স্টকহোম স্কুল অব ইকোনমিক্স ও লন্ডন বিজনেস স্কুলে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের বিকাশে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি অনন্যা শীর্ষ দশ নারী সম্মাননা লাভ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুবাবা দৌলার বিসিবিতে আসা শুধু ক্রিকেট প্রশাসন নয়, দেশের নারী নেতৃত্বের ভবিষ্যতের জন্যও বড় একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।








