দেশের শীর্ষ সারির সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রথম আলোর কাছে পাঠকদের প্রত্যাশা সবসময়ই বস্তুনিষ্ঠতা। কিন্তু সম্প্রতি বিনিয়োগ নিয়ে তাদের প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড ও প্রতিবেদন জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিনিয়োগে চমক দেখাতে না পারার যে তকমা তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দিতে চেয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে কড়া জবাব দিয়েছেন বিডার সাবেক প্রধান আশিক চৌধুরী।
সময়সীমা নিয়ে কারসাজি: ‘ফ্রেমিং ইফেক্ট’-এর শিকার পাঠকরা
প্রথম আলো তাদের প্রতিবেদনে জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়সীমার ডেটা ব্যবহার করেছে। আশিক চৌধুরী তার পোস্টে একে ‘সেলুকাস’ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ:
- বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে আগস্ট ২০২৪-এর মাঝামাঝি সময়ে।
- বিডা-র (BIDA) প্রকৃত কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে শুরু হয়েছে অক্টোবর থেকে।
জুলাই ও আগস্টের চরম অস্থির সময়ে যখন দেশে গণঅভ্যুত্থান চলছিল, সেই সময়ের বিনিয়োগ না আসার দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোকে তিনি মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফ্রেমিং ইফেক্ট’ বা তথ্য নিয়ে চাতুর্য বলে অভিহিত করেছেন।
প্রকৃত তথ্য কী বলছে? বিনিয়োগ বেড়েছে ৮০ শতাংশ
আশিক চৌধুরী জানান, সঠিক বিশ্লেষণের জন্য যদি যথাযথ সময়সীমা বেছে নেওয়া হতো তবে চিত্রটি হতো সম্পূর্ণ ইতিবাচক।
- ডেটা বিশ্লেষণ: অক্টোবর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ বা ২০২৫-এর প্রথম ৯ মাসের ডেটা অনুযায়ী বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ৮০% বেড়েছে।
- বিশ্বব্যাংকের তথ্য: শ্রীলঙ্কা বা সুদানের মতো গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশগুলোতে সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগ ‘নেট নেগেটিভ’ হয়ে যায়, কিন্তু বাংলাদেশে তা হয়নি।
- কৃতিত্ব কাদের: বিনিয়োগের এই বিশাল অর্জনের সিংহভাগ কৃতিত্ব দেশের বেসরকারি খাত এবং সাধারণ মানুষের। প্রথম আলো এই ইতিবাচক দিকটি এড়িয়ে গিয়ে নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
‘নিবন্ধনে ধস’ না কি শুদ্ধি অভিযান?
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ‘নিবন্ধনে ধস’ নামার তথ্যটিকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আশিক চৌধুরী এর পেছনের মূল রহস্য ফাঁস করেছেন:
- ভুয়া নিবন্ধন বন্ধ: আগের সরকারের আমলে ‘উন্নয়নের জোয়ার’ দেখানোর জন্য প্রচুর ভুয়া নিবন্ধন করা হতো। কাগজে-কলমে নিবন্ধন বাড়লেও বাস্তবে এক টাকাও বিনিয়োগ আসত না।
- স্বচ্ছতা নিশ্চিত: বর্তমান প্রশাসন এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে নিবন্ধনের সংখ্যা কমলেও প্রকৃত বিনিয়োগের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।
প্রথম আলোর প্রতি আহ্বান: ‘ক্লিকবেইট’ বন্ধ করুন
আশিক চৌধুরী তার পোস্টে সরাসরি প্রথম আলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের তো সেকেন্ড ক্লাস পত্রিকার মতো ক্লিকবেইট প্রকাশের দরকার নাই। দয়া করে বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশ করুন।”
একটি দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের কাজ হলো দেশের সংকটের সময় প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে জনমনে ভরসা জোগানো, অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়। পাঠকদেরও উচিত যেকোনো ফটোকার্ড বা শিরোনাম দেখেই বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্যের সময়সীমা ও উৎস যাচাই করা।








