ইরানের রাজনীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোক ও আলোচনার ঝড় বইছে। সম্প্রতি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হওয়ার পর তাঁর দাফন এবং শেষ বিদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানাব খামেনির দাফন কোথায় হবে এবং ইরান সরকার কী পরিকল্পনা করছে।
মাশহাদে হবে শেষ ঠিকানা
ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির দেওয়া তথ্যমতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে। মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং খামেনির ছোটবেলা কেটেছে এখানেই। মাশহাদের বিখ্যাত ইমাম রেজা মাজারে তাঁর বাবার কবর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখেই তাঁকে সেখানে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দাফন ও জানাজার সময়সূচী
এখনও পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাফন বা জানাজার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে একটি বিশাল গণ-স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে। সেখানে দেশের সাধারণ মানুষ এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। নিরাপত্তার কারণে এবং বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সবকিছু অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরানের ক্ষমতা কার হাতে
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে যেন কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির শাসনভার দেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদের হাতে। এই পরিষদ এখন দেশটির দৈনন্দিন কাজ তদারকি করছে।
উত্তরসূরি নির্বাচনে বিলম্ব কেন
ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে সেই বৈঠকটি খামেনির দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাফন প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা পরবর্তী নেতা নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব
খামেনির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের যে উত্তেজনা, তা এখন কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার বিষয়। তবে আপাতত পুরো ইরান শোক পালন করছে এবং মাশহাদে তাদের নেতার শেষ আগমনের অপেক্ষা করছে।








