হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়আ. লীগ কর্মীদের না ছাড়ায় পুলিশের হাড়গোড় ভাঙার হুমকি যুবদল নেতার
spot_img

আ. লীগ কর্মীদের না ছাড়ায় পুলিশের হাড়গোড় ভাঙার হুমকি যুবদল নেতার

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানায় আ. লীগ কর্মীদের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতার পুলিশের প্রতি হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানার পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার অভিযান ও পটভূমি

রানীশংকৈল থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আওয়ামী লীগের চার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,
বাচোর ইউনিয়নের রাজোর এলাকার মৃত বজির উদ্দিনের ছেলে হামিদুর রহমান (৬০),
তার ছেলে সারোয়ার নূর লিওন (৩২),
ভাউলারবস্তি এলাকার মৃত হুসেন আলীর ছেলে খলিলুর রহমান (৫০) এবং
ধর্মগড় এলাকার এনামুল হকের ছেলে জিয়াউর রহমান (৪২)।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উত্তেজনা

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, হামিদুর ও সারোয়ারের বাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলামের এলাকায়। গ্রেপ্তারের সময় জাহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে তিনি পুলিশকে আসামিদের ছাড়ার অনুরোধ জানান, তবে পুলিশ তা প্রত্যাখ্যান করে।

এরপর ওই এলাকার কিছু মানুষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে পীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. নাজমুল হুদা মিঠু থানায় এসে ওসিকে আসামি ছাড়ার অনুরোধ করেন এবং কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশের প্রতি অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি দেন।

রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরশেদুল হক বলেন,

“গ্রেপ্তার চারজনই আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত। এজন্যই পীরগঞ্জ যুবদলের সভাপতি মিঠু আমাকে গালাগাল করেন এবং ‘বাইরে গেলে ঠ্যাং ভেঙে দেব’, ‘থানা উড়িয়ে দেব’ বলে হুমকি দেন। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

যুবদল নেতার বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা নাজমুল হুদা মিঠু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন,

“আমি থানায় গিয়েছিলাম কারণ আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আমার ব্যবসায়িক পার্টনার। আমি শুধু ওসিকে বলেছি, যাদের ধরা হয়েছে তারা রাজনীতি করে না। হুমকি বা বিশৃঙ্খল কোনো কিছু আমি বলিনি।”

তিনি আরও জানান,

“আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি কেবল কথা বলতে গিয়েছিলাম। অতীতে থানা রক্ষায় আমি নিজেই ভূমিকা রেখেছি।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, “ওসি আমার ফোন ধরেননি, পরে নিজেই আমাকে থানায় ডাকেন।”

অন্যান্য পক্ষের প্রতিক্রিয়া

বাচোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. জাহিদ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা পুরোপুরি অবগত নন।

জাহিদ বলেন,

“আমি আগে বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাই। এখনো বিস্তারিত জানি না, তাই মন্তব্য করতে পারছি না।”

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আদালতে চলমান এবং তদন্তাধীন।

পুলিশের পদক্ষেপ

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন,

“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা প্রথমেই থানার পক্ষ থেকে একটি জিডি করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন,

“পুলিশের প্রতি হুমকি দেওয়া একটি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। আমরা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া

রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, পুলিশকে হুমকির মতো ঘটনা ঘটলে সেটি আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত।

একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন,

“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা দাবি করেন, ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

রানীশংকৈল থানা সূত্রে জানা গেছে, হুমকির অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঘটনার দিন উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিচ্ছে।

তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও ঘটনার ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসনও পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে পুলিশের প্রতি হুমকি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় এমন কর্মকাণ্ডের শাস্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

একজন আইনজীবী বলেন,

“হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন আইনত অপরাধ। এটি প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন,

“তবে তদন্ত ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না। আইনি প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে কে দোষী।”


রানীশংকৈল থানায় আ. লীগ কর্মীদের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতার পুলিশের প্রতি হুমকির অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে, এখন সবাই অপেক্ষা করছে তদন্ত শেষে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন তা দেখার।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!