নগরবাউল জেমসের জীবনে এসেছে এক নতুন অধ্যায়। সংগীতাঙ্গনের কানাঘুষা আর আলোচনার মধ্যেই প্রকাশ পেলো জেমসের দাম্পত্য জীবন এবং পুত্রসন্তানের আগমন। ঢাকার কনসার্টে সস্ত্রীক হাজির হয়েছেন তিনি, যদিও আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।
প্রণয় থেকে নতুন পরিবার
জেমস জানালেন, “হতে পারে এটা আমার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট।” তাঁর কথায়, এই মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুখকর। ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে নামিয়া আনামের সঙ্গে পরিচয় হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয়, এরপর ফোনে বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক বছর প্রেমের পর ২০২৪ সালের ১২ জুন ঢাকায় পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
নামিয়া আনাম নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন এবং গৃহিণী নাহিদ আমিনের কনিষ্ঠ কন্যা। জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিসে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
সন্তান ও আনন্দ
নামিয়া ২০২৫ সালের ৮ জুন নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের নাম রাখা হয় জিবরান আনাম, যার অর্থ ‘পুনরুদ্ধার করা’ বা ‘শক্তিশালী করা’। জেমস জানান, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক মুহূর্ত।” এক মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরেন তারা।
নামিয়া বলেন, “জিবরানকে নিয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। সত্যিই জীবনের সেরা সময় পার করছি। আমাদের জন্য সবাই দোয়া রাখুন।”
জেমসের পুরোনো সম্পর্ক
জেমসের প্রথম বিয়ে হয়েছিল চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কানিজ রাবেয়ার সঙ্গে। ১৯৯১ সালে বিয়ে হলেও ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজীর সাজ্জাদের সঙ্গে জেমসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপর নামিয়া আনামের আগমন নতুন দাম্পত্য জীবনের সূচনা করেছে।
কন্যাসন্তান ও যোগাযোগ
পুরোনো সম্পর্কের সময়ও জেমস তার সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মেয়ে জাহানের সঙ্গে দেখা করেন। নামিয়া ও জেব্রানের সঙ্গে সম্পর্ক এখন মূলত আনন্দের।
নতুন জীবন ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
জেমস ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন নিয়ে বলেন, “হতে পারে এটি আমার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন।”
নতুন পরিবারকে নিয়ে জেমস এখন সময় দিচ্ছেন এবং সংগীত কনসার্টের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক সময় কাটাচ্ছেন।
দাম্পত্য জীবন ও সমর্থন
বিয়ের পর নামিয়া তার নামে জেমসের বংশপদবি ‘আনাম’ যুক্ত করেছেন। পরিবারিক জীবনের প্রতি এই মনোযোগ জেমসের নতুন প্রেরণা এবং সংগীতজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সংগীত ও পরিবার
জেমস প্রাক্তন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে পরিবারকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সংগীতাঙ্গনে ফিরে আসা কনসার্টেও পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।








