ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন আর শুধু কূটনৈতিক টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই। সংঘাতের এই আঁচ পৌঁছে গেছে আমেরিকার সাধারণ মানুষের মনেও। সম্প্রতি কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত একটি জনমত জরিপে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র। মধ্যপ্রাচ্যের এই সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিরা এখন যেমন বিভক্ত, তেমনি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে দারুণ শঙ্কিত।
হামলার পক্ষে-বিপক্ষে মার্কিন ভোটাররা
জরিপ অনুযায়ী, ইরানের ওপর সামরিক হামলার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে কোনো একক ঐক্যমত্য নেই। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:
- ৫৩ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের সামরিক অভিযানের সরাসরি বিরোধী।
- ৪০ শতাংশ ভোটার এই হামলাকে সমর্থন করছেন।
তবে একটি বিষয়ে প্রায় সব মার্কিনি একমত তা হলো স্থলযুদ্ধ। ইরানের মাটিতে মার্কিন সৈন্য বা গ্রাউন্ড ফোর্স পাঠানোর প্রশ্নে তিন-চতুর্থাংশ ভোটার ঘোর বিরোধিতা করেছেন। তারা মনে করেন, ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে জড়ানো আমেরিকার জন্য আত্মঘাতী হবে।
একনজরে মার্কিন জনমত জরিপের ফলাফল
| ইস্যু | বিরোধীদের হার | সমর্থকদের হার |
| সামরিক হামলা | ৫৩% | ৪০% |
| স্থলসেনা মোতায়েন | ৭৫% (প্রায়) | ২৫% (প্রায়) |
| যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি | ৭৫% (আশঙ্কিত) | ২৫% (উদ্বিগ্ন নন) |
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভয়: বড় ফ্যাক্টর
যুদ্ধের চেয়েও মার্কিনিরা বেশি ভয় পাচ্ছেন নিজেদের দেশের ভেতরের নিরাপত্তাকে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ মনে করেন, ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকার অভ্যন্তরেই বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মার্কিন ভূখণ্ডে বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এই ভীতিই মূলত সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের বিপক্ষে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
ইসরাইল ইস্যুতে সমান বিভাজন
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ ইসরাইলকে মার্কিন সমর্থন দেওয়া নিয়ে ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট দুই ভাগ লক্ষ্য করা গেছে:
- ৪৪ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সমর্থন ও সাহায্য দিচ্ছে।
- ঠিক সমপরিমাণ অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন, বর্তমান সমর্থনের মাত্রা একদম সঠিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ।
এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরাইল ইস্যুতে মার্কিন সমাজ এখন পুরোপুরি সমান দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জরিপটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির ওপর এই জনমতের বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের দামামা বাজলেও সাধারণ মার্কিনিরা যে নিজের দেশের মাটিতে নিরাপদ থাকতে চান, তা এই জরিপের ফলাফলে স্পষ্ট।
সূত্র: আলজাজিরা।








